করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চাহিদা মেটাতে নতুন করে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান অক্সিজেন উৎপাদনে যুক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।

নতুন এই প্রতিষ্ঠান দুটি দিনে ৭০ টন করে অক্সিজেন উৎপাদন করবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার আয়োজিত ‘করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় করণীয় এবং অক্সিজেন সংকট ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে প্রতিদিন আমাদের লিকুইড অক্সিজেন উৎপাদনের সক্ষমতা আছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টন। নতুন দুই প্রতিষ্ঠান থেকে যদি আরও ৭০ টন যুক্ত হয়, তাহলে আমাদের সক্ষমতা গিয়ে দাঁড়াবে ২৭০ টনে, যা আমাদের জন্য বিশাল একটা শক্তি।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে বড় তিন-চারটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, যারা সব মিলিয়ে ১৭৫ টনের মতো লিকুইড অক্সিজেন তৈরি করতে পারে। এ ছাড়াও আমাদের গ্যাস অক্সিজেন তৈরির সক্ষমতাও অনেক।

‘সরকারিভাবে আমাদের প্রায় ২২ হাজার সিলিন্ডার গ্যাস মজুত আছে। লিকুইড অক্সিজেন ও গ্যাস অক্সিজেন মিলিয়ে আমাদের প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২১০ টন অক্সিজেন তৈরির সক্ষমতা আছে।’

তিনি বলেন, ‘জুন মাসে আরও একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ৪০ টন লিকুইড অক্সিজেন উৎপন্ন করতে পারবে। তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছে। এ ছাড়াও জুলাই মাসে আরও ২৫ টন অক্সিজেন উৎপাদন করবে আরও একটি প্রতিষ্ঠান।

‘যেগুলো উৎপাদনে আছে সেগুলো যদি আমরা হিসাব করি, তাহলে দেখা যাবে আমাদের কাছে প্রতিনিয়ত ২০০ থেকে ২১০ টন অক্সিজেন আসে। একই সঙ্গে যদি আরও ৭০ টন যুক্ত হয়, তাহলে সেটি ২৭০ টন হয়ে যাবে। ফলে আমাদেরকে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিদিন স্বাভাবিকভাবে আমাদের ৫০ থেকে ৬০ টন অক্সিজেনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির সময়টাতে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল ২০০ বা ২১০ টনের মধ্যে, যে কারণে কয়েকটা দিন আমাদের সংকট গিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে ভারতও অক্সিজেন রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এখন মোটামুটি স্বাভাবিক অবস্থার দিকে আসতে থাকায় আমরা সংটকটা মোটামুটি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় ৯০০ টন অক্সিজেন আমাদের মজুত রয়েছে। এ ছাড়াও আমরা অক্সিজেন জেনারেটর অর্ডার করেছি, যাতে আমরা নিজেরাই অক্সিজেন তৈরি করতে পারি। অক্সিজেন স্টোর করার জন্য সক্ষমতা বাড়াতে আমরা বলেছি।

‘এটা আমরা করব। আমরা সরকারিভাবে আরও ১ হাজার টন অক্সিজেন মজুত করব। সেটা একটু সময় লাগবে। মোটামুটি অক্সিজেনের ব্যবস্থা যা আছে, তাতে আমাদের চলে যাবে। কিন্তু সংক্রমণ যদি ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়, তখন আমাদের সংকট বেড়ে যাবে।’