নিজস্ব প্রতিনিধি :-

 

ফেনীতে তানিশা হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে শুক্রবার বিকালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমদের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে গ্রেফতার হওয়া আক্তার হোসেন নিশান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এমরান হোসেন শুক্রবার বিকেলে আক্তার হোসেন নিশানকে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট শরাফ উদ্দিন আহমদের আদালতে হাজির করেন। নিশান হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারা জবানবন্দী প্রদান করে।

 

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এমরান হোসেন জানান, জবানবন্দিতে নিশান বলে তার বাবা জীবিত না থাকায় ও তারা দরিদ্র হওয়ায় চাচার পরিবার নিয়মিত তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতো। এ নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে তার মনে ক্ষোভ জমে ছিল। তানিশার ভাই মসজিদে ‘ইতেকাফে’ থাকায় বৃহস্পতিবার রাতে তাকে মসজিদে ভাত পৌঁছে দিতে বলে। সে ভাত নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে পথে তানিশার খালাতো ভাইকে ভাত পৌঁছে দিতে বলে আবার বাড়ী ফিরে যায়। তখন ঘরে ছিল তানিশা ও তার দাদী। এ সুযোগে তাদের ঘরে ঢুকে ড্রয়িং কক্ষেই তানিশার হাত ও মুখ বেধে ফেলে। টানা-হেঁছড়া করে তাকে ছাদের সিঁড়ি কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে একপর্যায়ে তানিশা হাত খুলে ফেলে। আবার হাত-মুখ বেঁধে তাদের রান্না ঘর থেকে ফল কাটার ছোরা নিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয়। পরে নারিকেল পাতার মধ্যে ছোরাটি লুকিয়ে রাখে। পরে ছাদের এক পাশে গাছ বেয়ে নীচে নেমে ধান ক্ষেত দিয়ে নিজের ঘরে চলে যায়। তাড়াহুড়ো করায় সিঁড়িতে তার সেন্ডেল ফেলে যাওয়ার কথা তখন ভুলে যায়।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমরান হোসেন জানান, ছাদে মৃতদেহের পাশেই পড়ে ছিল নিশানের জুতা। জুতার সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেখানো মতে হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত একটি ছোরাও উদ্ধার করা হয়। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে সংশোধন কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।