সৃষ্টিজগতের মধ্যে মানুষেরই কেবল বাকশক্তি রয়েছে। মনের ভেতরের ঘূর্ণায়মান কল্পনা-অনুভূতিকে বাগ্যযন্ত্রের সাহায্যে খুব সহজেই মানুষ অন্যের কাছে প্রকাশ করে। ভাষার সর্বোত্তম ব্যবহারে মুহূর্তের মধ্যে কারো মন জয় করা যায়। আবার এ ভাষা দিয়েই অন্যের হৃদয়ে কম্পন ও রক্তক্ষরণ করা যায়। উত্তম কথায় মানবমর্যাদা উন্নত হয়। ব্যক্তিত্বের স্তরও নির্ধারিত হয় এ কথার মাধ্যমে। কখনো কখনো এ কথায় বহু বিপদ টেনে আনে।

মানুষ বাকশক্তিসম্পন্ন প্রাণী। তাই তাদের কথা বলতেই হবে। তবে এ ক্ষেত্রেও কথা বলতে হবে নম্রভাবে, বিনয়ের সঙ্গে। জীবন চলার পথে কখনো কখনো যুক্তিতর্ক ও বিবাদের মুখোমুখি হতে হয়। সে ক্ষেত্রেও শালীনতার সীমা অতিক্রম করা যাবে না। কাউকে কটাক্ষ করা, উপহাস করা, কারো দিকে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করা এবং মন্দ বিশেষণে কাউকে ভূষিত করা ইসলামে খুবই গর্হিত অপরাধ। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অন্যের প্রতি দোষারোপ করো না এবং একে অন্যকে মন্দ নামে ডেকো না; ইমান আনার পর মন্দ নামে ডাকা অতি নিন্দনীয়।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১১)

কথা বলার সময় কখনো শালীনতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। গালাগাল করা, দম্ভভরে কথা বলা ও কর্কশ ভাষা ব্যবহার করা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, গর্হিত অপরাধ।

জীবন সংগ্রামের ব্যস্ততায় দিনদিন আমরা হারিয়ে ফেলছি ধৈর্য, উদারতা, ভালোবাসা এমনকি একটু মুচকি হাসির সামান্য সরলতাও। নগরজীবনে বাসের কাউন্টারে টিকেটের লাইন থেকে মসজিদে নামাজের কাতারেও সামান্য কারণে আমরা উত্তেজিত হয়ে পড়ি। অশালীন ভাষায় অন্যকে আক্রমণ করি। পথে ঘাটে আমাদের একটু উদাসীনতা অন্যের জন্য দুর্ভোগ ও যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই সব লাগামহীন বাক্য বিনিময় কিংবা নিয়ন্ত্রণহীন আচরণের দায়ে আমাদের ইসলাম ও মুসলমান পরিচয় যে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে- তা নিয়ে আমরা কি কখনও ভেবেছি?

ব্যাক্তির জীবন থেকে যাত্রা শুরু করে দল সংগঠন কে নেতৃত্ব দেওয়া কতিপয় দল ও সংগঠনের ব্যক্তির লাগামহীন ও নিয়ন্ত্রণহীন মুখের ভাষা ও অাচারণে সমাজের শান্তির ব্যবস্থা বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিনষ্ট হচ্ছে শিশুর বেড়ে উঠা প্রকৃতির সুন্দর পরিবেশ। যে জীবনে আনন্দ রস একবারেই নেই, সাধারণ মানুষ তেমন জীবনকে আদর্শরূপে গ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু হাসি-তামাশা যেন ভব্যতার সীমা ছাড়িয়ে না যায় সে জন্য সূক্ষ্ম রসবোধ ও আত্ম সংযম থাকা দরকার।

নীরবতা, নির্জনতা, স্থির ও সমাজবিচ্ছিন্ন একক জীবন নয়। দয়া, নম্রতা, নরম মেজাজ ও ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজের মানুষের সাথে হাসি মুখে, হাস্যোজ্জ্বল চেহারা নিয়ে মিশতে হবে। তাদের সঙ্গে কোমল আচরণ করতে হবে। আর এসব যেন লোক দেখানোর না হয়- সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর আচরণ করা ঈমানের অন্যতম শিক্ষা। তাই সর্বাবস্থায় সর্ব স্তরের মানুষের সাথে ভদ্র আচরণ করা প্রত্যেক ব্যক্তির কর্তব্য। সেই মানুষটি যে পর্যায়েরই হোক না কেন।

তাই সুন্দর, নৈতিক ও সংযত আচরণ করুন, অনৈতিক আচরণ পরিহার করুন।