টাইমস বাংলা নিউজ ডেস্ক :-

কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প সম্পন্ন, উদ্বোধন ১৭ মার্চ। এতে নগরবাসী আরও ১৪ কোটি লিটার পানি পাবে এবং ওয়াসার দৈনিক মোট পানি বেড়ে ৫০ কোটি লিটার হবে।’

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগেই সম্পন্ন হচ্ছে চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২-এর কাজ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ মার্চ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে দৈনিক ১৪ কোটি পানি পাওয়া যাবে। এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম ওয়াসাও দৈনিক উৎপাদন ৫০ কোটি লিটারে উন্নীত করতে পারবে। আর তা করা গেলে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নগরীতে আর পানির সংকট থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

বর্তমানে চট্টগ্রাম ওয়াসা মোহরা পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার, কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১ থেকে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার, মদুনাঘাট পানি সরবরাহ প্রকল্প থেকে দৈনিক ৯ কোটি লিটার এবং ৪৮টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে ৪ কোটি লিটারসহ মোট ৩৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে।

কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ থেকে আরও ১৪ কোটি লিটার উৎপাদিত হলে সব মিলিয়ে উৎপাদন ৫০ কোটি লিটারে উন্নীত হবে। অপরদিকে আগামী বছর কর্ণফুলীর পাড়ে বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি থেকে দৈনিক ৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হওয়ার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ বলেন, ‘আগামী ১৭ মার্চ দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পটি উদ্বোধন করা হবে। এতে নগরবাসী আরও ১৪ কোটি লিটার পানি পাবে এবং ওয়াসার দৈনিক মোট পানি বেড়ে ৫০ কোটি লিটার হবে।’

তিনি বলেন, গত ১০ বছরের চট্টগ্রাম ওয়াসা একাধিক প্রকল্প গ্রহণ করে। যেগুলো মূল উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রামের পানি সংকট দূর করা। পানির স্তর নেমে যাওয়া ও বিদ্যুৎ সংকটসহ নানা কারণে পানির দৈনিক উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়াতে চট্টগ্রাম ওয়াসা হিমশিম খাচ্ছিল। কিন্তু কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২ চালু হলে চট্টগ্রামে আর পানি সংকট থাকবে না।

প্রকল্প এলাকা রাঙ্গুনিয়ার পোমরায় দেখা গেছে, পুরোদমে শ্রমিকরা কাজ করছেন। ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজ প্রায় শেষের পথে। কর্ণফুলী নদীর রাঙ্গুনিয়ার গোডাউন ব্রিজ পয়েন্ট থেকে পানি এসে যেখানে জমা হবে, সেই রিসিভিং পয়েন্ট প্রস্তুত। রিসিভিং পয়েন্ট থেকে পানি পরিশোধনের জন্য ফিল্টার বেডের বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করবে। সেই ধাপগুলোর কাজও শেষ। এসব ধাপ থেকে পানি পরিশোধন হয়ে ক্লোরিন ইউনিটে গিয়ে জমা হবে এবং সেখান থেকে রিজার্ভারে। সব কিছুর কাজই সম্পন্ন। পানি সরবরাহের জন্য ছয়টি হাইলিফট পাম্প বসানোর কাজও শেষ।

প্রকল্প ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ কামরুল বলেন, ‘প্রকল্পে পানি পরিশোধন অংশে কোনো কাজ বাকি নেই। আমাদের সব প্রস্তুতি শেষ। এখন ফিনিশিং কাজ চলছে। কিছু রাস্তাঘাটসহ অন্যান্য কাজ বাকি রয়েছে। তবে সেগুলোর কারণে পানি উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হবে না।’

২০১৩ সালের আগস্ট একনেকে অনুমোদন পাওয়া কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-২-এর কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের জুন মাসে। প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে ২০২২ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত।

মেয়াদের এক বছর আগেই প্রকল্পের কাজ কীভাবে শেষ করলেন জানতে চাইলে প্রকল্পটির পরিচালক ও ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম বলেন, ‘করোনাকালেও আমাদের কাজ চলমান ছিল। এ জন্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের কাজটি শেষ করা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আরও দুটি (ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন) কম্পোনেন্ট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে শুধু ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের কাজটি বাকি রয়েছে। তা শেষ করতে আরও সময় লাগবে।’

৪ হাজার ৪৮৯ কোটি ১৫ লাখ টাকার প্রকল্পে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো অপারেশন অ্যাজেন্সি (জাইকা) দিচ্ছে ২ হাজার ৮০০ কোটি ৯২ লাখ, বাংলাদেশ সরকার ১ হাজার ৬৬৫ কোটি ১৬ লাখ এবং ওয়াসা দিচ্ছে ২৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট ছাড়াও ৩ দশমিক ৬ কিলোমিটার কনভেন্স পাইপলাইন, ৩১৭ কিলোমিটার ট্রান্সমিশন লাইন, ৭০০ কিলোমিটার ডিস্ট্রিবিউশন পাইপলাইন, দুটি সার্জ ট্যাঙ্ক, ৫৯টি ডিএমএ নির্মাণ, ২ কোটি ৪৮ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার জলাধার নির্মাণ এবং ৩০ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার একটি সুউচ্চ জলাধার নির্মাণ রয়েছে।

নদীর পানি যেভাবে পানযোগ্য করছে ওয়াসা:

কর্ণফুলী নদীর পাড়েই নির্মাণ করা হয়েছে ইনটেক চ্যানেল ও পাম্প স্টেশন। এর মাধ্যমে দৈনিক ১৪ কোটি লিটার পানি নদী থেকে পরিশোধনের জন্য তোলা হয়। এরপর পানি রিসিভিং ওয়েলে পাঠানো হয়। সেখানে কেমিক্যাল এলাম, লাইম, ক্লোরিন ও পলিমার মেশানো হয় পানির সঙ্গে। তারপর পানি ফ্লোকুলেটর চ্যানেলে ৩০ মিনিট প্রবাহের পর ক্লেরিফায়ার ইউনিটে ঢুকিয়ে ৮০ মিনিট রাখা হয়।

সেখানে পানিতে থাকা কাদা মাটি স্লাগ আকারে ক্লেরিফায়ার ইউনিটের তলানি হিসেবে জমা হয়। যা স্বয়ংক্রিয় স্লাগ কালেক্টরের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ক্লেরিফায়ার ইউনিটে পরিশোধিত পানির র‌্যাপিড স্যান্ড ফিল্টারে ঢোকে। র‌্যাপিড স্যান্ড ফিল্টারে পরিশোধিত পানি ক্লিয়ার ওয়েল রিজার্ভারে জমা হয়।

তারপর ক্লোরিন গ্যাস প্রয়োগের মাধ্যমে পানির জীবাণু ধ্বংস করা হয়। এভাবে কয়েক ধাপে পানি পানযোগ্য করছে চট্টগ্রাম ওয়াসা।

 

টিবিএন/ আইএইচএস