চট্টগ্রাম  (জেলা) প্রতিনিধিঃ- 

 

ছিনতাইকারীর কবলে পড়া এক কিশোরের অভিযোগের ভিত্তিতে মাঠে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরিসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রামের পুলিশ।

বন্দরনগরীর কোতোয়ালি থানা পুলিশ বলছে, শুক্রবার ভোর রাতে নগরীর ফিরিঙ্গি বাজার, পাথরঘাটা ও ওয়াসা মোড় থেকে গ্রেপ্তার ওই দশজন তিনটি ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য; ঈদ সামনে রেখে তারা ‘বেপোরোয়া’ হয়ে উঠেছিল।

 

গ্রেপ্তার ১০ জন হলেন- বেলাল হোসেন ওরফে রুবেল (৩০), মেহরাজ হোসেন রাকিব (২৫), হাবিবুর রহমান কায়সার ওরফে রানা (২২), শরীফ হোসেন (২০), মো. জয় (২১), মো. রুবেল (২০), সাইফুল ইসলাম (২১), সাদ্দাম হোসেন (২৯), মো. রাসেল ওরফে রাকিব (১৯) ও মো. ইয়াকুব (১৯)।

 

কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিরিঙ্গিবাজারের ব্রিজঘাট এলাকায় ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে রিদুয়ানুল ইসলাম নামের এক কিশোর। কুতুবদিয়া থেকে সে চট্টগ্রামে এসেছিল পোশাক কিনতে। তিন ছিনতাইকারী তার কাছ থেকে সাড়ে ১৯ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

 

“অস্ত্রের ভয়ে রিদুয়ান টাকাপয়সা দিয়ে কালামিয়া বাজার এলাকায় তার খালার বাসায় চলে যায়। সেখানে গিয়ে সবকিছু খুলে বলার পর সন্ধ্যায় তার খালুকে নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে আসে।”

 

ওসি নেজাম জানান, ওই অভিযোগ পেয়ে পুলিশ রাতেই অভিযানে নামে। রাত দেড়টার দিকে রুবেল, রাকিব ও রানাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তারা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার এবং ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন এবং সাড়ে ১৯ হাজার টাকা বের করে দেয়।

 

জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর রাতে তাদের নিয়েই চট্টগ্রাম বন্দরের ব্রিজঘাট এলাকায় অভিযানে যায় পুলিশ। সেখানে একটি বাজারের ব্যাগের ভেতরে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড কার্তুজ পাওয়ার কথা জানান ওসি।

 

তিনি বলেন, “রুবেল, রাকিব ও রানা জিজ্ঞাসাবাদে বলে, ঈদ সামনে রেখে তাদের পরিচিত আরও কয়েকটি চক্র নগরীতে সক্রিয় আছে। তাদের তথ্যে আরও দুটি জায়গায় অভিযান চালানো হয়।”

 

এর মধ্যে ওয়াসা মোড়ে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ সংলগ্ন নার্সারির সামনে থেকে শরীফ, জয় ও রুবেলকে তিনটি ছুরিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আর পাথরঘাটা মেরিনার্স রোড থেকে সাইফুল ইসলাম, ফিরিঙ্গি বাজার হাজি কলোনির মুখ থেকে সাদ্দাম, রাসেল ও ইয়াকুবকে তিনটি ছুরিসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

 

ওসি নেজাম বলেন, “তারা বিভিন্ন এটিএম বুথের সামনে এবং নির্জন রাস্তায় অবস্থান করত, সাথে সবসময় ছুরি রাখত। সুবিধামত কাউকে পেলে টাকা পয়সা, মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নিত।”

কেউ বাধা দিলে ছুরি দিয়ে আঘাত করার কথাও এই ছিনতারইকারীরা জিজ্ঞাসাবাদে ‘স্বীকার করেছে’ বলে জানান কোতোয়ালির ওসি।