নিজস্ব প্রতিবেদক:

 

ছাগলনাইয়াঃ ফুলগাজীর ব্যবসায়ী শ্যালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মী ও অপহরণ করে জমি লিখে নেয়ার অভিযোগে আপন ভগ্নিপতি আরেফিন আজাদ চৌধুরী বাদলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগে সত্যতা না থাকায় খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

গত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ফেনীর সিনিয়র ুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বিবাদীর শ্যালক ও মামলার বাদী নজরু ল ইসলামের মামলটি খারিজ করেন।অ নজরুল ইসলাম নিজের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বার বার সময় নিয়ে দীর্ঘদিন বিবাদী ভগ্নিপতি বাদল চৌধুরীকে হয়রানি করার অভিযোগ তার স্বজনদের।
বিচারকের দেয়া রায়ে দেখা যায়, মামলার বাদী নজরুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহন বিষয়ে জননী ও নাজারী দাখিল বিষয়ে বার বার সময় প্রার্থনা করে সময় ক্ষেপন করেছে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর শনানীর দনি নির্ধারণ করা হয়। আবারো অসুস্থতার কথা বলে সময় প্রার্থনা করা হয়। আদালত তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সভ্যতা না থাকায় ফৌজদারী কার্যবিধির ২০৩ ধারায় মামলাটি খারিজ করেন।

এদিকে শ্যালক নজরুল ইসলাম বাবলুর অভিযোগের বিষয়ে রাজনীতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা দফায় দফায় দু- পক্ষের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি বলে জানাগেছে। শেষ পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমেই তার একটা সমাধান আসার এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি এসেছে।

ভগ্নিপতি আরেনি আজাদ বাদল চৌধুরী মিথ্যা অভিযোে দিয়ে সম্মানি ও হয়রানীর পেছনে ছাগলনাইয়ার সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনের প্রভাবশালী এক নেতা জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে, মামলাটি খারিজ হওয়ায় বাদল চৌধুরীর পরিবার, সমর্থক ও এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানাগেছে। তবে, পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত বাদল চৌধুরীর সম্মানহানি ও হয়রানীর বিচার দাবি করেছেন অনেক।

শ্যালক নজরুল ইসলামের অভিযোগকে মিথ্যা ও হয়রানী দাবি করে গত বছরের ২৪ আগস্ট মাসে নজরুলের ভগ্নিপতি ছালনাইয়া পৌরসভার দক্ষিন সতর গ্রামের মৃত মুলকুতের রহমানের ছেলে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আরেফিন আজাদ বাদল চৌধুরী সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগের বিষয়ে বাদল চৌধুরী জানিয়েছেন, প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দঃ অত্যন্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজকে আমি আরেফিন আজাদ বাদল চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে আসতে বাধ্য হয়েছি।

 

উল্লেখিত বিষয়ে দায়েরকারী নজরুল ইসলাম বাবলু, পিতা মৃত তাজুল ইসলাম. মাতা- হালিমা খাতুন, গ্রাম- বসন্তপুর, আমজাদহাট ইউনিয়ন, ফুলগাজী, ফেনী, সম্পর্কে আমার স্ত্রীর আপন মায়ের পেটের ভাই। আমার শ্যালখ নজরুল ইসলাম বাবলু এক সময়ের বেকার ও ভবঘুরে ছিল। তাকে আমি আমার প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করার সুযোগ করে দিয়েছিলাম। আত্মীয় ও চাকুরীর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমার নিজের ফিল্ম ফেয়ার লিমিটেড থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও চুরি করে নজরুল ইসলাম বাবলু নিজের নামে বেনামে সম্পদ গড়েছে।

 

এ টাকা নিয়ে সে নিজের নামে বসুন্ধরাতে জমি ও প্লট ক্রয় ও আমার ৩৫ কোটি টাকা চুরির বিষয়টি জানাজানি ও প্রমাণিত হয়েছিল। এক পর্যায়ে ফেনীর কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিক নেতৃবৃন্ধ দু-পক্ষের মধ্যে একটি আপোষ মীমাংস করে দেয়। দু-পক্ষের মধ্যে আপেষ মীমাংসার আলোকে গত ১৮ জন ২০২০ তারিখে ঢাকার কেরানীগঞ্জ সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে নজরুল ইসলাম নিজে সেচ্ছায় ছয় কাঠা জমি আমাকে রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছিল। (যা সাবেক ৪৪২, আরএস ৯৩ নং নাইয়াটোলা, সিএস ২০৮নং, এসএ১৬৬, নামজারী ও জমা কেইস নং ৩৯৩২/১৯-২০, তারিখ ২/১/২০২০, জোত ০২/২০২০) দীর্ঘ আড়াই মাস অতিক্রম হওয়ার পর একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র ও যোগসাজসে আমি শালিশদার জনপ্রতিনিধিসহ সম্মানী ব্যক্তিদের সম্মানহানির উদ্দেশ্য তাদের আসামী করে অপহরণ করে জমি লিখে নেয়া ও ট্রাকে ভরে ঘরের মালামাল তুলে নেয়ার অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট দায়ের করেছে। মিথ্যা মামলা দেয়ার ঘটনায় নিয়ে আমার শাশুড়ি আম্মা হালিমা খাতুন আমার মায়ের ফোনালাপটি প্রকাশ হওয়ার পর ছেলে বাবলুর চাপে ফোনালাপটির কথা অস্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পাল্টা আরেকটি বক্তব্য দিয়েছে। যা সত্যকে আড়াল করে মিথ্যা মামলাকে সাজানোর নাটকের আর একটি অংশ বলে আমি মনে করছি।

 

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, প্রায় আড়াই মাস আগে নিজ ইচ্ছায় জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে নজরুল ইসলাম এখন অপরহরণসহ বিভিন্ন মিথ্যা নাটক সাজিয়ে আমার সম্মানহানি জন্য মিথ্যা মামলার আশ্রয় নিয়েছে। জাতির বিবেক সাংবাদিক ভাইয়েরা, নজরুল ইসলামের মতো অকৃতজ্ঞদরে দ্বারা সবই করা সম্ভব। তার মতো বেকার একটি ছেলেকে নিয়ে আমি চাকুরী দেয়া থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠার জন্য সবই কিছুই করেছিলাম। বিনিময়ে আমার কোটি কোটি টাকা চুরি করে নিজের নামে সম্পত্তি কিনেছে। এতে ক্ষ্যান্ত হয়নি যে। আজ আপনাদের সামনে দাঁড়াতে অত্যান্ত কষ্ট লাগছে। তার মিথ্যা মামলার প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে হচ্ছে আমাকে। আপনার লেখনির মাধ্যমে এই অকৃতজ্ঞ নজরুল ইসলামের মিথ্যা ও বানোয়াট অপহরণ মামলা থেকে প্রতিকার পেতে সহযোগিতা কামনা করছি।