নীলফামারী (জেলা) প্রতিনিধি :-

 

মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থাভাবে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে নীলফামারীর ডোমারের মেধাবী সন্তান আবুল বাশারের। চলতি বছর এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ১৫১১তম হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সে।

মেধার জোরে সব বাধা অতিক্রম করে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেলেও আর্থিক দুশ্চিন্তায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে পড়ালেখা চালিয়ে নেয়া।

আবুল বাশার ডোমার উপজেলার বামুনিয়া ইউনিয়নের মৌজা বামুনিয়ার মো. মাহাবুল ইসলাম ও শেফালী বেগমের ছেলে। তিন ভাইবোনের মধ্যে সে সবার বড়। আবুল বাশারের বাবা একজন বর্গাচাষী। অন্যের জমিতে চাষাবাদের পাশাপাশি বাইরে গিয়েও কাজ করে সন্তানের লেখাপড়া করিয়েছেন তিনি। তবে গত দেড় বছরে করোনার কারণে বাইরে গিয়ে কাজ করতে না পারায় অর্থকষ্টে দিন কাটছে তার। এরইমধ্যে ছেলে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেলেও দুশ্চিন্তায় আছেন কিভাবে পড়ার খরচ যোগাবেন।

মাহাবুল ইসলাম বলেন, আমার সামান্য কিছু জমির পাশাপাশি এলাকার মানুষের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করি। অন্য সময় ঢাকায় গিয়ে কাজ করে সন্তানদের লেখাপাড়ার খরচ চালাই। তবে করোনায় ঢাকায় যেতে না পারায় উপার্জন কমে গেছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, বড় ছেলে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে এই খুশির সংবাদে যখন পরিবার ও আত্মীয় স্বজনরা আনন্দে আত্মহারা সেই সময় ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে কান্না আসে। ছেলে মেডিকেলে চান্স পেলেও মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে অনেক টাকার প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ছেলেটাকে ঠিকভাবে লেখাপড়ার খরচ দিতে পারিনি। এসএসসিতে সে তার ফুপুর বাসায় চিলাহাটিতে থেকে লেখাপড়া করে চিলাহাটি মার্চেন্ট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পায়। এরপর সে রংপুর সরকারি কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলে আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় লেখাপড়া চালিয়ে যায়। করোনাকালীন সময়ে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে পাস করেছে সে।

নিজের ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম করে লেখাপড়া করে সফল হয়েছে সে। এখন মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেলেও ভর্তি হতে অনেক টাকা পয়সার দরকার। তাছাড়া রাজশাহী গিয়ে থাকা অনেক খরচের ব্যাপার। এত টাকা কিভাবে জোগাড় করব ভেবে উপায় পাচ্ছি না। এ বিষয়ে আর্থিক সহযোগিতার জন্য ডোমার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহিনা শবনম তাদের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

ছেলের মেডিকেল কলেজে ভর্তি ও লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সমাজের বিত্তশালী ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সাহায্য চেয়েছেন তিনি।

কথা হয় মেডিকেলে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত আবুল বাশারের সাথে। তিনি জানান, আমি যদি মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পাই তাহলে আমার যখন সামর্থ্য হবে তখন অন্য গরিব পরিবারের সন্তানদের পড়ার দায়িত্ব নেব। পাশাপাশি ডাক্তার হয়ে সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়ারও স্বপ্ন দেখে সে।