নিউজ ডেস্কঃ- 

 

দেশব্যাপী করোনা সংক্রমিত রোগী বেড়ে যাওয়ায় সরকার ঘোষিত লকডাউন কার্যকরের লক্ষে গাড়ী যোগে ছাগলনাইয়া থানার ওসি সহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক (তদন্ত) রফিক উদ্দিন ও থানার সেকেন্ড অফিসার মুনিরুল ইসলাম, ছাগলনাইয়া থানাধীন ৫নং মহামায়া ইউনিয়নস্থ চাঁদগাজী বাজারে যাওয়ার পথে ছাগলনাইয়া পৌরসভাধীন হিছাছরা স্কুল সংলগ্ন রাস্তার পাশে থাকা দোকানগুলি অতিক্রম করাকালীন হঠাৎ শিশুকোলে ক্রন্দনরত এক গৃহবধূকে দেখতে পান। গাড়ীতে থাকা ওসি সহিদুল ইসলাম দৃশ্যটি দেখার পর তাৎক্ষণিক তিনি গাড়ী থামিয়ে গাড়ী থেকে নেমে ওই গৃহবধূর নিকটে গিয়ে তার কান্না করার কারণ কি? তা জিজ্ঞেস করলে, তখন শাশুড়ীর অমানুষিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ ওই গৃহবধূ তার উপর স্বামীর চালানো শারীরিক নির্যাতনের চিহ্নগুলি দেখিয়ে, তাকে কিছুক্ষণ পূর্বে তার শাশুড়ী ও স্বামী বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছেন বলে জানান। গৃহবধূর মুখে কথাগুলি শোনার পর ওসি তাৎক্ষণিক ওই গৃহবধূকে লোক মারফত থানায় পাঠিয়ে, থানার কম্পিউটার অপারেটরকে ফোন করে ওই গৃহবধূর কাছ থেকে গৃহবধূর উপর চালানো শাশুড়ী ও স্বামীর অত্যাচার নির্যাতনের বিষয় স্ববিস্তার শুনে একটি অভিযোগ লিখার জন্য নির্দেশ দেন।

কিছুক্ষণ পর ওসি থানায় ফিরে গৃহবধূর কাছ থেকে জেনে লিখে রাখা অভিযোগে, উল্লেখিত ঠিকানা অনুযায়ী অভিযুক্ত ওই পাষন্ড স্বামীকে গ্রেপ্তার করার জন্য তার বাড়ীতে পুলিশি অভিযান প্রেরণ করেন।

 

গতকাল ২৮ জুন হিছাছরা গ্রামে সুতা বিক্রেতা মরহুম এছাক ফকির বাড়ীতে গৃহবধু নির্যাতনের এই ঘটনাটি ঘটেছিল বলে জানা যায়। এক বছর পূর্বে হিছাছরা গ্রামের ফকির বাড়ীর মরহুম ছালে আহম্মদের বড় পুত্র জালাল আহম্মদের সাথে পৌরসভাধীন দক্ষিণ যশপুর গ্রামের কাজী বাড়ীর মরহুম কাজী আবুল কালামের মেয়ে ফারজানা আক্তার লিনার সাথে বিবাহ হয়েছিল। বিয়ের পর পরই শাশুড়ীর অমানুষিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গৃহবধূ লিনা দীর্ঘ ৯ মাস যাবত তার বাবার বাড়ীতে অবস্থান করছিল। ঘটনার দিন গৃহবধূ লিনা স্বামীর বাড়ীতে এলে স্বামী তার উপর শারীরিক নির্যাতন চালানোর পর শাশুড়ী তাকে বাড়ী থেকে বের করে দেন।

 

বিয়ের পর থেকে নির্যাতনের শিকার নিরীহ পরিবারে জন্ম গ্রহণ করা অসহায় গৃহবধূ লিনার অভিযোগ শোনার পর এই বিষয় ছাগলনাইয়া থানার ওসি সহিদুল ইসলাম দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনি সহায়তা প্রদান করায় থানা প্রশাসনের কার্যক্রম দেখে এই এলাকার জনগণ বলছেন, পুলিশ সত্যিই জনগণের সেবক।