মানুষ বেঁচে থাকে তার কর্মের মাধ্যমে-বয়সের বিচারে নয়। নশ্বর এ পৃথিবী থেকে সবাইকে একদিন চলে যেতে হবে। কর্মের গুণে কাউকে মানুষ মনে রাখবে, কেউ হারিয়ে যাবে মারা যাবার সাথে সাথেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমনই একজন মানুষ যার কর্মই তাঁকে অমরত্ব দান করবে। শান্তি, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক মানবিক উন্নয়ন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি এবং উন্নয়নে অনন্য অবদানের জন্য তিনি চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। বিশ্বশান্তির অগ্রদূত শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠন করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি সমৃদ্ধির পথে তাঁর অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তাছাড়া তিনি দেশ-বিদেশের অনেক স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিতে ভূষিত হয়েছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মানজনক যে সব আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তা হলো- 

১। বাংলাদেশের পার্বত্যাঞ্চলে দীর্ঘ দুই দশকের অস্থিরতার অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো তাকে ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার দেয়। ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় এসে পার্বত্য শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যোগ্যতার বহির্প্রকাশ ঘটিয়ে তিনি এ পুরস্কার অর্জন করেন।

২। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (WFP) ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৯ সালে শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক ‘সেরেস’ ( CERES) মেডেল প্রদান করে।

৩। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে শেখ হাসিনা দুটি পুরস্কারে ভূষিত হন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকা এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ও ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণে যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’। ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৫, শনিবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছ থেকে ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার হাতে ওই পুরস্কার তুলে দেন আইটিইউর মহাসচিব হোউলিন ঝাও। পুরস্কারটি শেখ হাসিনা বাংলাদেশের তরুণদের উৎসর্গ করেছেন। ২৭শে সেপ্টেম্বর ২০১৫, রোববার রাতে (নিউইর্য়ক সময়) তিনি ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ পুরস্কার গ্রহণ করবেন।

৪। ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও পারস্পরিক সন্তোষজনক সম্পর্ক, নিজ দেশের জনগণের কল্যাণ, নারী ও শিশু এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতায় অবদানের জন্য বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রখ্যাত পরমানু বিজ্ঞানী ও ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. এ পি জে আবদুল কালামের নামে প্রতিষ্ঠিত ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এডভাইজরি কাউন্সিল-এর ‘ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৯’ প্রদান করা হয়।

৫। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ‘লাইফটাইম কন্ট্রিবিউশন ফর উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেয় ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেন।

৬। ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘গ্লোবাল সামিট অব ওমেন’ বাংলাদেশে নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরিতে অসামান্য নেতৃত্বদানের জন্য শেখ হাসিনাকে ” গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ এওয়ার্ড ” প্রদান করেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্বের প্রায় ১৫০০ নারী নেতৃত্বের উপস্থিতিতে গ্লোবাল সামিটের প্রেসিডেন্ট আইরিন নাতিভিদাদের কাছ থেকে তিনি গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ এওয়ার্ড গ্রহণ করেন।

৭। মিয়ানমার থেকে নির্যাতিত হয়ে আসা ১০ লাখের মতো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসিত হন শেখ হাসিনা। নির্বাসিত অসহায় মানুষের থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন শেখ হাসিনা। প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলো এই পরিস্থিতিতে সীমানা বন্ধ রাখলেও শেখ হাসিনা বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দিয়ে এক বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছেন। অসহায় মানুষগুলোর প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় ব্রিটিশ মিডিয়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ (মানবতার মা) উপাধিতে ভূষিত করে।

৮। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নিউজ এজেন্সি ‘দি ইন্টার প্রেস সার্ভিস (আইপিএস) এবং নিউইয়র্ক, জুরিখ ও হংকং ভিত্তিক তিনটি অলাভজনক ফাউন্ডেশনের নেটওয়ার্ক গ্লোবাল হোপ কোয়ালিশন ২০১৮ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানে দায়িত্বশীল নীতি ও তার মানবিকতার জন্য ‘আইপিএস ইন্টারন্যাশনাল এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০১৮ ‘স্পেশাল ডিসটিংশন অ্যাওয়ার্ড ফর লিডারশিপ’ এ দুটি অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে।

৯। ২০১০ সালে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এমডিজি) অর্জনে বিশেষ করে শিশু মৃত্যুর হার হ্রাসে অবদানের জন্য জাতিসংঘের উইমেন ইন পার্লামেন্ট (ডব্লিউআইপি) ও ইউনেস্কো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘ডব্লিউআইপি গ্লোবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেছে।

১০। ২০১৪ সালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কন্যাশিশু ও নারী শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ট্রি অব পিচ’ শীর্ষক বিশেষ স্মারক প্রদান করছেন ইউনেস্কো মহাপরিচালক ইরেন।

১১। স্বাস্থ্য খাতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাস এবং ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ২০১১ ও ২০১৩ সালে জাতিসংঘ ইকনোমিক কমিশন ফর আফ্রিকা, জাতিসংঘে এন্টিগুয়া-বারবুডার স্থায়ী মিশন, আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন ও সাউথ সাউথ নিউজ কর্তৃক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দুইবার `সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড` প্রদান করেন।

১২। ২০১৪ সালের ২১শে নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের ‘সাউথ-সাউথ ভিশনারি’ পুরষ্কার