নিজস্ব প্রতিনিধি :-

 

২১ জানুয়ারি ফেনীকে নান্দনিক, পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক বাসযোগ্য শহরে রূপান্তর করার জন্য নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বর্তমান মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী। তাঁর নেতৃত্বে বর্তমান পৌর পরিষদ ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী দায়িত্বভার গ্রহণের পর বিগত ১০ মাসে পৌর এলাকায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরুর পাশাপাশি ফেনী শহরের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার জন্য অবিরাম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পৌরসভার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সাথে অতিরিক্ত জনবল দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাথায় ক্যাপ, মুখে মাস্ক, হাতে ঝাড়ু ও বেলচা নিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আটটি ভ্রাম্যমান ডাস্টবিন (ভ্যান গাড়ি) যোগে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে নিয়মিত পরিচ্ছনতার কার্যক্রম চলছে।

এছাড়াও ফুটপাত হেঁটে চলার পথগুলোকে অনেকটা দখলমুক্ত করাসহ নানামুখী অনেক ভালো পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছেন মেয়র স্বপন মিয়াজী, যা পৌরবাসীর নিকট প্রশংসনীয় হচ্ছে। জানা গেছে, ১৯৫৮ সালে ফেনী পৌরসভা গঠিত হয়। এটি প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা ও ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত মাত্র ২৭.২০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের ফেনী পৌরসভা। বিগত দিনে এই পৌরসভায় নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি, হাজী আলাউদ্দিন, প্রয়াত কোবাদ আহাম্মদ, প্রয়াত নুরুল আবসারসহ অনেকেই মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী মেয়র হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বর্তমান তরুন মেয়র পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ফেনী শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে উপযুক্ত করে তোলার পদক্ষেপ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছেন মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী। ইতিমধ্যে ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সৌন্দর্যবর্ধন, নান্দনিক ডিজাইনের দোয়েল চত্ত্বর নির্মান, আল্লাহ লেখা সংবলিত ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন শেষে তা উদ্বোধন করেন ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি।

এদিকে ফেনী শহরজুড়ে আলোকসজ্জাকরণ লাইটিং, রাজাঝির দীঘি পাড়ে ফোয়ারা স্থাপনসহ শহরের সৌন্দর্যবর্ধনে নানামুখি কাজ বাস্তবায়ন করেছেন তিনি। একসময় ফেনী শহরের সর্বত্র প্রতিদিন জমে থাকতো বিশাল পরিমাণের বর্জ্য। খোলা ডাস্টবিনে ময়লা আর্বজনার কারণে সবচেয়ে অপরিচ্ছন্ন শহর মনে হতো ফেনীকে। ওই সব খোলা ডাস্টবিনে রাখা বর্জ্য থেকে বের হওয়া দুর্গন্ধ যেমন পথচারীদের অসহনীয় যন্ত্রণা দেয়, তেমনি যানজটেরও সৃষ্টি করত। ঘন্টার পর ঘন্টা এসব আবর্জনা পড়ে থাকলেও নিয়মিত পরিষ্কার করা হতো না।

 

কিন্তু বর্তমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অনেক উন্নত হয়েছে, সূর্য ওঠার আগেই এসব আবর্জনা পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা ময়লার ডিপোতে পরিবহন যোগে নিয়ে যান। মাঝে মাঝে গভীর রাতে পরিচ্ছন্ন কর্মীদের কাজের তদারকি করতে আসেন মেয়র স্বপন মিয়াজী। এসময় তিনি পরিচ্ছন্ন কর্মীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করে থাকেন। পৌর কর্তৃপক্ষ সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা আমাদের একটি চিরন্তন অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেমন চলার পথে সিগারেট খেয়ে শেষ অংশটি, বাদাম খেয়ে কাগজের ঠোঙাটি, কলা খেয়ে সেটির খোসা সড়কের ওপরই ফেলে দিই।

এগুলো করে আমরা পুরো শহরটিকেই একটি মেগা ডাস্টবিনে পরিণত করে ফেলেছি। তাই এসব আবর্জনা অপসারনের জন্য পৌর মেয়র নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সাথে অতিরিক্ত জনবল দিয়ে দিনের বেলায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আটটি ভ্রাম্যমান ডাস্টবিন (ভ্যান গাড়ি) যোগে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে নিয়মিত পরিচ্ছনতার কার্যক্রম চলছে। তারা কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে পথচারী ও মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

রাস্তাঘাটে কোনো ময়লা যাতে না পড়ে, সেজন্য প্রতিটি দোকানের সামনে রয়েছে বক্স ডাস্টবিন। ব্যবসায়ীরা দোকানের ময়লা রাস্তায় না ফেলে বক্স ডাস্টবিনে রাখবেন। সময়মত পরিচ্ছন্ন কর্মীরা তা আর্বজনাবাহী গাড়িতে করে নিয়ে আসবেন। মেয়রের এই কর্মকান্ড সব রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক, সরকারি-বেসরকারি ও বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠনের প্রতিনিধিরা প্রশংসা কুড়িয়েছে।

ফেনী শহরের ব্যবসায়ী হারিছ ভূঞা বলেন, পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী প্রত্যেক মানুষকে রোগজীবাণুর আক্রমণ থেকে রক্ষা করে সুস্থভাবে বাঁচাতে নান্দনিক ও পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাই আমাদের উচিত যত্রতত্র ময়লা ফেলার নোংরা অভ্যাস পরিহার করে পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত ফেনী শহর গড়তে সহযোগিতা করা।

ফেনী জেলা জাতীয় যুব সংহতি সভাপতি রেজাউল গণি পলাশ বলেন, একটি নান্দনিক, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মেয়র যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেটিকে সাধুবাদ জানাই।

তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমাদেরকে আরো সচেতন হতে হবে। একটি পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে ফেনীকে দেখতে চাই।