নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- 

 

আমগাছের মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ফিরোজা খাতুন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধা খুন হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

মঙ্গলবার (১৮ মে) সন্ধ্যায় ফেনীর ছাগলনাইয়ার রাঁধানগর ইউনিয়নে নিচিন্তা গ্রামের শামসুল হক মিস্ত্রির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। নিহত ফিরোজা খাতুন একই এলাকার আব্দুর রউফের স্ত্রী।

আহতরা হলেন– নিহত ফিরোজা খাতুনের স্বামী আব্দুর রউফ (৭৫), ছেলে একরামুল হক (৪০) ফজলুল হক (৩০), পুত্রবধূ শামীমা আক্তার (২৮) ও শাকিলা আক্তার (২৩)।

নিহতের ছেলে ফজলুল হক জানান, বাড়ির একটা আমগাছের মালিকানা নিয়ে চাচাতো ভাই মফিজের পরিবারের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার বাবা আব্দুর রউফ ঘরের মধ্যে বসে গাছ নিয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের বকাঝকা করেন।

পাশের ঘর থেকে মফিজ এবং তার স্ত্রী জবাব দিলেই ঘটনার সূত্রপাত হয়।

ফজলুল হক আরও বলেন, আমার মা ছয় রোজা রাখছিলেন। মঙ্গলবার ছিল দ্বিতীয় রোজা। ইফতারের পর পর দুই পরিবারের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। আমি চাচাতো ভাইয়ের পরিবারকে বুঝিয়ে শান্ত করে ঘরে ঢুকিয়ে দিই।

আমরা ভেবেছিলাম ঝামেলা তখনই মিটে গেছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর মফিজের ভাগিনা ছাগলনাইয়ার কলেজ রোডের সন্ত্রাসী শাকিলের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী আরমান, ইয়াছিনসহ দুই মোটরসাইকেল ও এক সিএনজি অটোরিকশা করে একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ঘরে ঢুকে গালাগালি করতে থাকে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। আমার মা, বাবার মাথা ফেটে যায়। হাত ভেঙে যায়। অন্যদেরও রক্তাক্ত করে তারা। হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।

স্থানীয়রা জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে তারা ছাগলনাইয়া ও ফেনী হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাতেই ফিরোজা বেগমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনি রাত ৩টার দিকে মারা যান। মরদেহ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে বলে স্বজনরা জানান।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্থানীয় ইউপি সদস্য শামসুল হক রুমি জানান, বহিরাগত সন্ত্রাসীর হামলায় খুনের ঘটনায় পুরো গ্রামের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তিনি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

এছাড়াও গোপনসূত্রে টাইমস বাংলা নিউজ কে এক স্কুল শিক্ষার্থী জানান, (নিরাপত্তার জন্য পরিচয় গোপন রাখতে চান) “সন্ত্রাসী শাকিলসহ বহিরাগত আরমান ও ইয়াছিন এলাকার কাশীপুর স্কুল এর সামনে দাড়িয়ে বিভিন্ন রকম খারাপ কথাবার্তাসহ ইভটিজিং করতো। তারা খারাপ কিছু বলে হুমকি ধুমকি দিতো বলে ভয়ে আমি কিছুই বলতে পারিনি। শুধু আমি না আমার মতো এইরকম অসংখ্য মেয়েরা তাদের খারাপ আচরণের জন্য ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পেতো না।”

গোপনসূত্রে ছাগলনাইয়া কলেজ রোডের এক শিক্ষার্থী জানান, (নিরাপত্তার জন্য পরিচয় গোপন রাখতে চান) ” ইয়াছিন নামের এই সন্ত্রাসী আমাকে স্কুল চলাকালীন সময় স্কুল থেকে ফিরার পথে অনেকদিন ধরে ডিস্টার্ব করতো। একদিন আমাকে হুমকি দেয় ওর সাথে প্রেম না করলে আমাকে তুলে নিয়ে যাবে। এইজন্য আমি বেশ কিছুদিন ভয়ে আমি স্কুলে ও যেতে পারিনি।”

এ ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ছাগলনাইয়া থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলা দায়ের হওয়ার পর পর আমরা বিষয়টি নিয়ে তৎপর রয়েছি। মামলার সাথে জড়িত সবাই পলাতক রয়েছে। কাউকেই এখন পর্যন্ত আটক করা যায়নি। কবে ইনশাআল্লাহ আশা করছি খুব শিগ্রই আমরা আসামীদের আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবো।

ছাগলনাইয়া থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ রেহাই পাবে না। মামলার পর জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। এখন পর্যন্ত জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি। সবাই পলাতক রয়েছে।