টাইমস বাংলা নিউজ ডেস্ক:- ফেনী শহরে একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণে মা-মেয়েসহ তিনজনসহ দগ্ধ হয়েছে।
ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী জানান, শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়কের হলি ক্রিসেন্ট স্কুলের পেছনে শফি ম্যানসন নামের ছয়তলা ভবনের পঞ্চম তলায় শুক্রবার রাতে এ বিস্ফোরণ ঘটে।
দগ্ধরা হলেন- সৌদি প্রবাসী মাহবুব ইসলামের স্ত্রী মেহেরুন নেছা লিপি এবং তার দুই মেয়ে মরিয়ম ইসলাম ও হাফসা ইসলাম।
মরিয়ম সরকারি জিয়া মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির এবং হাফসা স্থানীয় হলি ক্রিসেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
মেহেরুন নেছা রাতে হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, “নিজের ঘরে বসে ছিলাম। হঠাৎ পাশের রুমে বিস্ফোররেণর শব্দ পাই। এরপর আর কিছুই জানি না কী হয়েছে।”
ওই ফ্লাটের প্রতিবেশী এক ভাড়াটিয়া নারী নার্গিস বলেন, “রাতের খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে চারদিক কেঁপে ওঠে। বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়ে দরজা খুলে দেখি পাশের ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণ ঘটেছে, আগুন জ্বলছে। ওই ফ্ল্যাটের প্রতিটি রুমের দরজা, বারান্দার গ্রিল ও দেয়াল ভেঙে গেছে। আমাদের ফ্ল্যাটেরও কয়েকটি দরজা ও জানালার কাঁচ ভেঙে গেছে।
দুর্ঘটনার পর তিনজন নারী যখন তাদের ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থান পুড়ে গেছে দেখেছি ”
ওই ভবনের বাসিন্দা রাজু আহমেদ জানান, হঠাৎ বিস্ফোরণে ভবনের দরজা জানালা উড়ে যায়, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। তবে ওই বিল্ডিং এ কোন সিলিন্ডার না থাকায় গ্যাস লাইন বিস্ফোরণের কোনো সম্ভাবনা নেই।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক (ইএমও) ডা. নয়ন দেব নাথ বলেন, “বিস্ফোরণে এক নারী ও তার দুই মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনজনের মধ্যে দুজনের শরীরের ৬০ ভাগ পুড়ে গেছে। তাদের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।”
বিস্ফোরণের ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, তারা রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে পুলিশের এক্সপার্ট টিম সিআইডি ও পিবিআইকে খবর দেওয়া হয়েছে। তারা এসে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করলে বিস্ফোরণের বিষয়টি ‘ক্লিয়ার’ করে বলা যাবে।