ছাগলনাইয়া প্রতিনিধি <>

এবার ফেনী জেলার ছাগলনাইয়ায় হুজুরের নির্যাতনে ২য় শ্রেনীর ছাত্র গুরুত্বর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। ঘটনাটি ঘটেছে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলা ৯নং শুভপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর ইসলামি দাখিল মাদ্রাসায়।

করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩০ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করার পরও চম্পকনগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষকরা কোচিং সেন্টারের নামে প্রাইভেট পড়াচ্ছে মাদ্রাসার ক্লাশ রুমে।

১৩ই মার্চ শনিবার সকাল ১১টায় মাদ্রাসায় কোচিং চলকালীন সময়ে দুষ্টামীর অভিযোগে ২য় শ্রেনীর ছাত্র আবদুল্লাহ আল নোমানকে মধ্যযুগী কায়দায় সারা শরীরে বেত্রাঘাত করে। এতে ছাত্রটি অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্য ছাত্রদের মাধ্যমে বাসায় পাঠায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

উক্ত বিষয় স্থানীরা জানান, উক্ত মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক জহিরুল ইসলাম জিহাদী প্রতি নিয়ত শাসনের নামে ছাত্র/ছাত্রীদের প্রচুর মারধর করে। এতে অনেক কমলমতি ছাত্র/ছাত্রীরা মাদ্রাসায় আসতে চায় না। আমরা বারবার মাদ্রাসায় কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দিলেও কোন কাজ হয় নি। আমরা উক্ত ঘটনার সুস্থ তদন্ত দাবী করছি এবং দোষী সহকারী শিক্ষকের শাস্তি দাবী জানাচ্ছি।

আহত ছাত্র আবদুল্লাহ আল নোমান’র চাচা ইলিয়াছ হোসেন টাইমস বাংলা নিউজকে জানান, আমি উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অভিযুক্ত শিক্ষককে এমন শাস্তি দেওয়া হোক যাহাতে ছাগলনাইয়ার মাটিতে আর কোন শিক্ষক এমনভাবে কমলমতি শিশুদের শাসন করার নামে এভাবে আঘাত করতে না পারে।

উক্ত বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক জহিরুল ইসলাম জিহাদী জানান, আমি উত্তেজিত হয়ে তখন উপস্থিত মাত্রাতিরক্ত  করে ফেলেছিলাম, ভূল করেছি, এভাবে মারা ঠিক হয় নাই। উক্ত বিষয়ে আমি অনুতপ্ত।

করোনা পরিস্থিতে কিভাবে মাদ্রাসায় কোচিং চলছে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া তাহের কে বার বার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি।

আবদুল্লাহ আল নোমান’র পরিবারের পক্ষে জানানো হয়, যদি মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে আমরা আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবো।

 

টিবিএন/ আইএইচএস/ ডেস্ক রিপোর্ট