নিউজ ডেস্ক :-

ফেনীর পরশুরামে সাড়ে চার লক্ষাধিক জনঅধ্যুষিত পরশুরাম উপজেলা। এতে সাড়ে তিন লক্ষাধিক মানুষ বিশ্ব হাতের মুঠো এই হিসেবে ধনী, গরিব সবার ঘরে রয়েছে বিলাসীতার মোবাইল এতে রয়েছে সবার পছন্দের রবি, গ্রামীণ ও বাংলালিংক এয়ারটেল সীম। কিন্তু দুঃখের বিষয় পরশুরাম উপজেলার তিন দিকে ভারত। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন পরশুরাম উপজেলার মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীরা। অপারেটরে দুর্বল নেটওয়ার্কগ্রা হকদের অভিযোগ, বারবার নম্বর ডায়াল করেও নির্দিষ্ট নম্বরে ফোন মিলছে না। যদিও যখন মিলছে, তখন কথা অস্পষ্ট। এক মিনিটে মাঝেও কল কেটে যায় বার বার । যতবার কাটে ততবারই কোম্পানি লাভবান।গ্রাহকদের জন্য হতাশার বানী।গ্রাহকের নেই কোনো সুযোগ সুবিধা তাদের যেমন চলে যায় টাকা তেমনি চলে যায় মোবাইলের আয়ুষ্কাল। তার পরে-ও গ্রাহক মনের টানে বার বার কল দেয়। এক সময় জোরে এক সময় এমন আস্তে শব্দ আসছে যে ঠিক করে শোনাই যাচ্ছে না প্রিয় জনের কথা।

সব কিছুই মূলে মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যা। দুর্বল নেটওয়ার্কের কারণে ফোনে কোনও কিছু ডাউনলোড বা আপলোড করতে গিয়ে যেমন হয় হাতের ব্যাথা তেমনি হচ্ছে সময়ের বিড়ম্বনা।
বর্তমান করোনা প্রাদুর্ভাবের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষে কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীদের বই মুখি করার জন্য চলছে অনলাইন ক্লাস। তারাই ধারাবাহিকতায় চলছে পরশুরামে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চলছে অনলাইন ক্লাস। কিন্তু মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যা কারণে পরশুরাম উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোমলমতি ছাত্র ছাত্রীরা যেমনটি অনলাইন ক্লাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি পড়াশোনা থেকে ছিটকে চলে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দিশেহারা সচেতন অভিভাবক।

বৃষ্টি ছাড়াও মোবাইল নেট পরিষেবা নিয়ে পরশুরাম উপজেলা মোবাইল গ্রাহকদের বহু অভিযোগ রয়েছে। ‘থ্রি-জি’ বা ‘ফোর-জি’ পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে বলা হলেও বহু এলাকাতেই তা অমিল বঞ্চিত হচ্ছে তেমনি ডিজিটাল সেবায় । বেশিরভাগ সময়ই মোবাইলগুলির স্ক্রিনে থ্রি-জি’র এইচ’এর বদলে ‘ই’ লেখা হয়ে থাকে। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক ক্রমশ গতি হারিয়ে ফেলে।শত চেষ্টা করেও সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

পরশুরাম উপজেলা বক্সমামুদ ইউনিয়ন প্রতিটি গ্রাম বেশির ভাগই ভারতের পাশাপাশি অবস্থিত। নরনীয়া, মুন্সিরখীল, কেতরাঙা, খেজুরিয়া, হরদোনা এইসব গ্রামের গ্রাহকরা মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যা কারণে সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শুধু বঞ্চিত হচ্ছে না যেমন নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময় তেমনি ব্যয় হচ্ছে অর্জিত ধন। ফোর-জি সেবা দেওয়া দূরের কথা থ্রী-জি পাওয়া অনেক মুস্কিল। এতে গ্রাহক দের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে। গ্রাহকদের যেমন চলে যায় মোবাইলের টাকা। তেমনি ভাবে নষ্ট হয় মূল্যবান সময়।

উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের সুবার বাজারে অবস্থিত রবি টাওয়ারটি স্থাপনের পর থেকেই এর আওতাভুক্ত গ্রাহকদের মোবাইল নেটওয়ার্কে বিড়ম্বনা রয়েছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানোর পরও এটি মেরামত করার কোনো উদ্যোগ নিলেও পুর্নাঙ্গ সমাধান হয়নি। সত্য নগর, মহেশ পুষ্করনী রাজশপুর,শালধর,মাটি রাঙা এইসব গ্রামের একেধারে সমস্যা। তা বলে ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

শহরের মোবাইল গ্রাহকরা সহজেই ফোর -জি সুবিধা পেলেও এমন সুযোগ সুবিধা থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের গ্রাহকরা। গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি টেলিটক ও এয়ারটেল – এ পাঁচ অপারেটরের গ্রাহকরাই নেটওয়ার্ক সমস্যা, কলড্রপ ও মানসম্মত সেবা থেকে বেশি বঞ্চিত। তবে ভোগান্তি থাকলেও মানুষ তুলনামূলক কম অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে। কারণ অভিযোগের পথটি সহজ নয়।

পৌর এলাকার বাউরপাথর, বাউর খুমা, বিলোনিয়া গ্রামের গ্রাহকরা জানান, আমাদের এলাকায় বর্তমানে কোনো টাওয়ারের নেটওয়ার্ক নেই। নেটওয়ার্ক ফেরাতে কোম্পানিগুলোর কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। কলড্রপ থেকে শুরু করে ঘরে মোবাইলের নেটওয়ার্ক যন্ত্রণায় ভুগেছেন বেশির ভাগ গ্রাহক।

গ্রাহকেরা জানান, কয়েক বছর আগেই ডিজিটাল যুগে পা রেখেছে বাংলাদেশ। আকাশে উঠছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বেড়েছে যোগাযোগ। টু-জি থেকে ফোর-জি আসলেও মোবাইল সেবা যাকে বলে তার সামান্যটুকু গ্রামে পাওয়া যাচ্ছেনা।

সবচেয়ে বেশি অভিযোগ সত্য নগর মহেষপুষ্করনি, মাইঠ্য নগর মির্জানগর, বিলোনিয়া, বাউরখুমা, বাউরপাথর, নরনিয়া, মুন্সীরখিল, কেতরাঙা, খেজুরিয়া গ্রামের গ্রাহকদের।

তাঁরা বলছেন, ফোর-জি পরিসেবার যুগে এখনও মোবাইলে নেট সমস্যা। চরম হতাশার কথা। মানসম্মত সেবাজনিত অভিযোগও সবচেয়ে বেশি এসেছে রবির বিরুদ্ধে।

দেখা যায় গুগলের চাকা ঘুরেই চলেছে। ফোনে কথা বলার সময়ও বারবারই চলে যাচ্ছে নেটওয়ার্ক। মাঝেমধ্যে স্ক্রিনে নেটওয়ার্ক ফিরে এলেও ফোনে কোনও কাজ হচ্ছে না। প্রয়োজনে জরুরি ফোনও করা যাচ্ছে না।

 

টিবিএন/ আইএইচএস