পরশুরাম প্রতিনিধি :-

ফেনী জেলার পরশুরামে এবার মধ্যম মালিপাথরের নুরানী মাদ্রাসার শিশু ছাত্রীকে যৌন নিপীঁড়নের অভিযোগে মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মোঃ কাউসার হাবিব (২৫) ও প্রিন্সিপাল মাওলানা অলি উল্লাহ (৩০) কে গ্রেপ্তার করে আজ আদালতে প্রেরন করেছে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (১৪ মার্চ) পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়নের মধ্যম মালিপাথর তালীমূল কোরআন কাওমী মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠলে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এর সহযোগিতায় অত্র মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক কাউসার হাবিব (২৫) ও মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল অলি উল্লাহ(৩০) কে পুলিশে সোর্পদ করে।

শিশু ছাত্রীর বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, প্রতিদিনের ন্যায় যথারিতি আমার মেয়ে গত ৯ ই মার্চ (মঙ্গলবার) সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মতো ক্লাস করে এবং মধ্য ভোজের সময় বাড়ি থেকে পাঠানো টিফিনও খায়। এসময় অভিযুক্ত কাউসার হাবিব (২৫) আমার মেয়েকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে মাদ্রাসার পাশে নির্মাণাধীন আশ্রায়কেন্দ্রে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে এ সময় মধ্য ভোজের পর আবার ক্লাসের সময় হলে মাদ্রাসার ঘন্টা বেজে উঠলে সহকারী শিক্ষক কাউসার হাবিব যথারীতি ক্লাসে যায়। আমার মেয়ে ক্লাস শেষ করে বাড়িতে আসলে তার মাঝে আমরা নীরবতা লক্ষ করি এবং পরের দিন মাদ্রাসা পাঠানোর চেষ্টা করলে সে যেতে চায় না পরে আমরা অনেক চেষ্টা করে মাদ্রাসায় পাঠাই। পরবর্তীতে ১৩ মার্চ (শনিবার) মেয়ের কাছে তার এমন নীরবতা কারণ জানতে চাইলে রাত ৮ টা দিকে সে তার মা’কে ঘটনার বিস্তারিত বলে কান্নায় ভেঙ্গে পরে। পরে আমার স্ত্রী আমাকে বিষয়টি জানালে আমি মাদ্রাসা গিয়ে প্রিন্সিপাল কে জানালে তিনি বিস্তারিত শুনে বিষয়টি দেখবেন বলে আমাকে চলে যেতে বলেন এবং সু-কৌশলে মাদ্রাসার সহকারী ঐ শিক্ষক’কে সিএনজি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাদের কে দাওয়া করে আটকে রাখে।

পরবর্তীতে স্থানীয় এলাকাবাসী ইউপি সদস্য নুরুল আলমকে জানায়। পরে ইউপি সদস্য নুরুল আলম ঘটনাস্থলে এসে চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়ে মাদ্রাসার ঐ দুই হুজুরদেরকে পুলিশের হাতে সোপার্দ করে। জানা যায়, অভিযুক্ত মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক কাউসার হাবিব নওগাঁ জেলার চকগোপাল এলাকার আবদুল হামিদের ছেলে। অভিযুক্ত অপর আসামি মাওলানা অলি উল্লাহ ফিরোজপুর জেলার ওয়াহেদাবাদ এলাকার হাজী আব্দুল মাজেদের ছেলে।

পরশুরাম থানার এস আই মোস্তাক জানান, রবিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ইউপি চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ভূঁঞা মুঠোফোনে কল দিয়ে বিষয়টি জানালে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আসামিদের কে ঐ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করি এবং এই বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তীতে আসামিদের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

 

টিবিএন/ আইএইচএস