নিজস্ব প্রতিবেদকঃ- 

 

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা শুভপুর ইউনিয়ন’র আওতাধীন ফেনী নদীর তীরে (জয়চাঁদপুরে) চম্পকনগর গ্রামের আব্দুল হামিদ আনজু মিয়া (৬০) নামের এক শ্রমিকের অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যায়।

 

গতকাল বৃহস্প্রতিবার (১০ জুন) চম্পকনগর গ্রামের দিনমজুর আনজু মিয়া (৬০) বাড়ি থেকে বের হয় কাজের গন্তব্য জগন্নাথ সোনাপুর ও পশ্চিম অলিনগর এর মাঝপথে অবস্থিত ফেনী নদীর একাংশে ভারতীয় বর্ডারের পাশে একটি বন-জঙ্গলে কাঠ কাটার জন্য। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি বৃহস্প্রতিবার সকাল ৯ ঘটিকায় বাড়ি থেকে বের হন। সারাদিন শেষ হয়ে গেলেও তিনি বাড়িতে না ফেরায় বাড়ির মানুষজন দুশ্চিন্তায় পড়ে খোঁজ নেয়া শুরু করেন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখোঁজির পর ও কোনো খবর না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক এলাকাবাসী কে জানালে গ্রামের যুবসমাজের উদ্যোগে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেয়া শুরু হয়। রাতের অন্ধকারে ফেনী নদীর বিভিন্ন তীরবর্তী অংশে ও খোঁজা হয়। কিন্তু সারারাত খুঁজেও মেলেনি আনজু মিয়ার কোনো খোঁজ। একদিকে পরিবারের কান্নার আহাজারী আর অন্যদিকে গ্রামবাসীর কপাঁলে দুশ্চিন্তার ভাজ, এভাবেই কাটলো সারাটা রাত।

এমতাবস্থায় আজ শুক্রবার (১১ জুন) ফেনী নদীর আওতাধীন শুভপুর ইউনিয়নের জয় চাঁদপুর গ্রামের পাশে নদীর তীরে সকাল সাড়ে ৮ ঘটিকার সময় একটি লাশ দেখতে পান বলে সেখানকার স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, খবরটি শুনে চম্পকনগর গ্রামের লোকজন গিয়ে চিহ্নিত করে লাশটি গতকাল থেকে হারিয়ে যাওয়া আনজু মিয়ার। পরবর্তীতে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ কে খবর দেয়া হলে প্রশাসনিকভাবে লাশটি কে উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর বক্তব্য, আনজু মিয়া গতকাল কাঠ কাটার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। তিনি শারীরিকভাবে ও অসুস্থ ছিলেন। তাছাড়া তার শরীরের একটি কিডনি ডেমেজ। দিন মজুর হওয়ায় পেটের দায়ে কাজের জন্য বের হয়েছিলেন। কিন্তু দিন শেষে সন্ধ্যা নামার পরও যখন বাড়ি ফিরছিলেন না তখন গ্রামের সবাই মিলে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি৷ অবশেষে আজ সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে আমাদের কাছে একটি ফোন কল আশে জয়পুর গ্রামের কোনো এক অজ্ঞাত ব্যাক্তি তার ভাষ্যমতে আমরা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পাই তিনি মারা গেছেন। তবে আমাদের ধারণামতে তিনি অসুস্থ হয়ে কোনোভাবে নদীতে পড়ে যায় তারপর হয়তো পানির স্রোত বেশি থাকায় তিনি দুর্বল থাকায় পানি থেকে আর উঠতে পারেনি।গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ফেনী নদীর পানির স্রোতের পরিমাণ বেশি থাকায় তিনি পানির স্রোতে ভেসে যায় এবং সেই স্রোতের সাথে তার কাজের যেই স্থান সেখান থেকে প্রায় ১১ কিঃ মিঃ দূরবর্তী স্থানে লাশটি তীরে আটকে যায়।

এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে আমরা ধারণা করছি এটি স্বাভাবিক মৃত্যু। এলাকাবাসী আমাদের জানান তিনি কাজ করতে গিয়ে কোনোভাবে দুর্ঘটনার সহীত নদীতে পড়ে গিয়ে আর উঠতে পারেন নি। কিন্তু আমরা লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী মর্গে পাঠিয়েছি। তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসার পর আমরা নিশ্চিত হবো বিষয়টি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি হত্যা।