বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ’র সাবেক সদস্য, ফেনী জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সভাপতি, ঐতিহ্যবাহী ফেনী সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহবায়ক, ফেনী জেলা যুবলীগের এক নম্বর সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জুয়েল (৩৮) মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি … রাজিউন)।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ফেনী ন্যাশনাল হার্ড হাসপাতালে নিয়ে যায় স্বজনরা, এ সময় কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায় মিজান ময়দানে জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন মরহুমের স্বজনরা।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ফেনী জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এম.পি, ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু সুসেন চন্দ্র শীল, ফেনী পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ফেনী জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন, সাধারণ সম্পাদক রাজীব চৌধুরী, ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল,  ছাগলনাইয়া পৌর মেয়র এম. মোস্তফা, ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তোফায়েল আহমেদ তপু, সাধারণ সম্পাদক নুর করিম জাবেদ সহ রাজনৈতিক সামাজিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ীবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ ও ফেনীর স্বেচ্ছাসেবী বঙ্গবন্ধু ব্লাড ব্যাংক ছাগলনাইয়া’র সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোঃ এনায়েত উল্যাহ সোহেলসহ স্বেচ্চাসেবী সংগঠনগুলো গভীর শোক প্রকাশ করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

মৃত্যুকালে জুয়েল তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান।

জুয়েল মৃত্যুতে সাংবাদিক আরিফ রেজভী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আবেগগণ স্ট্যাস্ট্যাস দিয়ে্ছে, তাহা হুবহু তুলে ধরা হলো।
তোর নীরব প্রস্থান অভিমানের নয় তো!
তোর মৃত্যু মানতে পারছে না কেউ
ছবির মতই প্রতিবাদী, বজ্রকন্ঠ, তেজ-সবই ছিল তোর।
মাত্র ৩৭ বছরের জীবন। আজ চিরনিদ্রায়, কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়ে, কাউকে কষ্ট না দিয়ে।
তোর নীরব প্রস্থান অভিমানের নয় তো!
রাজনীতিতে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তোর। ছোট্ট এ জীবনে সবগুলো তকমা পেয়েছিস। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি, ঐতিহ্যবাহী ফেনী কলেজ ছাত্রলীগ আহবায়ক এবং মৃত্যুকালে জেলা যুবলীগের এক নম্বর সদস্য ও পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক।
তোর এত অর্জনের পেছনে শ্রম, ঘাম, রক্ত, ক্ষয়ের কথা ক’জন জানে, ক’জনই-বা মনে রেখেছে?
ভিক্টোরিয়া কলেজে পড়তে গিয়ে খুনী শিবির সন্ত্রাসীরা তোকে পঙ্গু করে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। ২০০১ সাল পরবর্তী সময়ে কিশোরকাল পেরোনোর আগেই এমন আঘাত তোকে দমাতে পারেনি। এর কয়েকবছর পর আবারও আঘাত, এবারও অঙ্গহানির আশংকা!
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হবার প্রাক্কালে- ফ্রেন্ডশীপ ক্রিকেট ক্লাবের ইফতারে অলক্ষ্যে টুপ করে পা ছুঁয়ে সালাম করেছিলি। আমি হতভম্ব হয়ে রইলাম। যে কথাগুলো বলেছিলি, তা বোধহয় আমৃত্যু মনে থাকবে…
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোকে কবুল করুন, জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন, আমীন।
ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি,ফেনী পৌর আওয়ামী লীগ এর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জুয়েল আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন), তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট প্রার্থনা করি মহান রাব্বুল আলামীন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুক, আমিন
মাত্র কয়েকদিন আগে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ এর ইফতার পার্টিতে তোলা ছবি। এত তাড়াতাড়ি জুয়েল আমাদের ছেড়ে চলে যাবে এখনো বিশ্বাস করতে পারছিনা। হে আল্লাহ আপনি জুয়েলের দুনিয়াবি জানা অজানা সকল ভূলক্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতবাসী করন।
কেনো এভাবে চলে গেলেন ভাই? কিসের এতো তাড়া? কতো নির্ঘুম রাত একসাথে কাটিয়েছি। একসাথে রাজনৈতিক শত্রুদের প্রতিহত করেছি। এসব স্মৃতি কি করে ভুলে যাবো?
কতো ঝগড়া করেছি। আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি। আমাকে ক্ষমা করে দিবেন ভাই। চোখের জল কিছুতেই থামছে না।
ওপারে ভালো থকবেন ভাই