আবদুল মান্নানঃ-

 

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নতুন করে সরকারি বিধিনিষেধ জারি হলেও সীমান্তবর্তী এলাকা পরশুরামে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের তেমন কোন কর্মতৎপরতা নেই।

 

সীমান্তবর্তী এলাকা হলেও বিধিনিষেধ ছিল শুধুই কাগজেকলমে, মাঠের বাস্তব চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

 

ফেনী পরশুরামে গত আটদিন দিন ধরে হু হু করে করোনা সংক্রমণ বেড়েই যাচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে চারজন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার (২৮ জুন) সকালে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

পরশুরামে গত ৮ দিনে ২৫ জন রোগী সনাক্ত হয়েছেন। তারমধ্যে ২৮ জুন ১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলে ১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়।

এছাড়া ২০ জুন একজন, ২২ জুন তিনজন ২৩ জুন দুইজন ২৪ জুন একজন ২৫ জুন ৩ জন, ২৭ জুন ৪ জন, সর্বশেষ ২৮ জুন ১১ জন।

 

সচেতন মহল মনে করছেন সংক্রমণ বেড়ে গেলে পরশুরামে করোনা ওয়ার্ডে বেড সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে।

 

পরশুরাম পৌর সভার মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল ব্যক্তিগত অর্থায়নে গতবছর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরুষ ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করেন এতে অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন বেড, অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ প্রয়োজনীয় ইন্সট্রুমেন্ট স্থাপন করেন।

 

গণমাধ্যম কর্মী মহি উদ্দিন বলেন, দুই-একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও বাজারের প্রবেশমুখে কিছু নিএনজি আটকে দেওয়া ছাড়া আর কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। বিধিনিষেধ বলে তেমন কিছুই ছিল না, সবকিছুই স্বাভাবিকভাবে চলছে। কেউ স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছেন না।

 

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) প্রিয়াঙ্কা দত্ত ২৭ জুন অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা বৈঠকে সকলকে মাক্স ব্যবহারের অনুরোধ জানান। তিনি তাঁর বক্তব্য বলেন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের জরিমানা করলে সুফল পাওয়া যাবে না। সবাইকে নিজে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্য বিধি মানাতে পরামর্শ দিয়েছেন।

 

অপরদিকে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত আইন-শৃঙ্খলা সভায় মির্জানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ নুরুজ্জামান ভুট্টো অভিযোগ করেন ভারতীর নাগরিকেরা অনায়াসে বাংলাদেশের যাতায়াত করেন এতে করোনার ভারতীয় ভেরিয়েন্ট বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানান। কিন্তু এক মাস পরও উপজেলা প্রশাসন কিংবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কার্যকরে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এক মাস পর অনুষ্ঠিত ২৭ জুনের আইন-শৃঙ্খলা সভায় পুনরায় বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।