শহর প্রতিনিধিঃ- 

 

ফেনী শহরের উত্তর বিরিঞ্চিতে মেহরাজ (১৮) নামের এক কিশোর হত্যা মামলায় মঙ্গলবার (২২ জুন) কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার (২৩ জুন) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শহীদ বিশ্বাস জানান, মঙ্গলবার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কিশোর মেহরাজ হত্যা মামলার তিন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো বিরিঞ্চি এলাকার মোঃ হারুনের ছেলে মোঃ আরিফুল ইসলাম (১৯), সুলতানপুরের মোঃ শহীদের ছেলে শেখ ফরিদ (১৯) ও কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানার মোঃ ইউনুসের ছেলে খুরশিদ প্রকাশ শাকিল (১৯)। তিনি আরো জানান, তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। শাকিল একই এলাকার নোমানের বোনের মোবাইল নাম্বার চায়। মোবাইল নাম্বার চাওয়াকে কেন্দ্র করে হত্যাকান্ডটি ঘটায় শাকিল। শাকিল তার বন্ধুদেরকে ফোন করে নিয়ে আসে। হত্যাকান্ডে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে নিহতের মা হোসনে আরা বেগম বাদী হয়ে ১০ কিশোরের নাম উল্লেখ করে ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে ১৯ মে ফেনী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামীরা হলো সদর উপজেলার বাঁলিগাও ইউনিয়নের আফতাব বিবি গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে শাকিল, ধনা মিয়ার ছেলে হাসান, বিরিঞ্চির শাহ আলমের ছেলে রাকিবুল হাসান অনুল, হারুন মিস্ত্রির ছেলে আরিফুল ইসলাম, মোঃ স্বপনের ছেলে মোঃ হাসান, পিয়াস, আকাশ, পলাশ, হৃদয় ও মুর্শিদ। শাকিল ও আফিফুল ইসলামের পরিবার বর্তমানে আতিকুল আলম সড়কের রশিদ ম্যানশনে ভাড়া থাকে।

 

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফেনী পৌরসভার বিরিঞ্চি হাঙ্গার এলাকার ফকির বাড়ীর প্রয়াত আবদুল্লাহর ছেলে মেহরাজ বিরিঞ্চি নূরিয়া সুফিয়া মাদরাসার ছাত্র। মাসখানেক আগে মেহরাজের বন্ধু নোমানের বোনকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করলে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তার উপর ক্ষুব্দ হয়ে ওঠে। এর জের ধরে ১৮ মে রাতে নোমান নামের স্থানীয় বখাটে মেহরাজকে উত্তর বিরিঞ্চি রশিদ ম্যানশনের সামনে ডেকে নিয়ে মারধর শুরু করে। এসময় নোমান ও তার সহযোগিরা ইট দিয়ে মেহরাজের মাথা থেতলে দেয়। তার শোর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে একমাস চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৫ জুন) তার মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ জুন) বাদ জোহর বিরিঞ্চি বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের সামনে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

 

ফেনী মডেল থানার ওসি মোঃ নিজাম উদ্দিন জানান, মেহরাজ হত্যা মামলায় পূর্বের একজন সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিশোর গ্যাংয়ের অপর সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) থোয়াইঅংপ্রু মারমা জানান, কিশোর অপরাধ কঠোর হাতে দমন করা হবে। এ মামলায় চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।