দুর্গাপুর রাজশাহী প্রতিনিধি :- 

 

ক্ষমতা কিংবা অবস্থান দিয়ে নেতৃত্ব যাচাই করা যায় না বরং দায়িত্বজ্ঞান কিংবা কর্মের দ্বারাই তা একমাত্র করা সম্ভব। “জন সি ম্যাক্সওয়েল” উক্তিটি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। যার বড় উদাহরণ স্বর্ণপদক প্রাপ্ত রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা ভালুকগাছী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাকবীর হাসান। জনগণের কল্যাণে নিরলস পরিশ্রম করে চলেছেন। যা বহু ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে অনুকরণীয় হয়ে আছে।

ইউনিয়ন পরিষদ নামটি মনে আসলেই ভোগান্তির নানান চিত্র স্মৃতি ভেসে আসে। দেশের অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিয়ে জনগণের মাঝে ভোগান্তি, তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। ঠিক তেমনই পুঠিয়া উপজেলার ভালুকগাছী ইউনিয়ন ও তেমন ছিলো।

ভৌগলিক অবস্থান উপজেলার শেষ অঞ্চলে হওয়াতে কাঙ্ক্ষিত অনেক সেবা থেকেই পিছিয়ে ছিলো ইউপি বাসী। তবে ২০১৮ সালে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি প্রার্থীকে পরাজিত করেন তাকবীর হাসান। তিনিই মূলত পরিবর্তনের দিগন্ত উন্মোচিত করেন। ইউনিয়ন পরিষদ হল বাংলাদেশের সর্বনিম্ন প্রশাসনিক একক। যেখানে ১২ মেম্বার ও ১ চেয়ারম্যান নিয়ে গঠিত ইউপি পরিষদ। দেশের নানান প্রান্তের ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের ফলে বারবারই পত্রিকার শিরোনাম হয়েছে।

জনগণের সবথেকে বেশি অভিযোগ থাকে পরিষদে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতি ও কাজের ধীরগতি নিয়ে জনগণের সীমাহীন ভোগান্তি। তবে ভালুকগাছী ইউপির চিত্র ভিন্ন, সেখানের চেয়ারম্যান তাকবীর হাসান উপস্থিত থাকেন সপ্তাহে ৫ দিন। সকাল ১০ টা থেকে ৩ টা আবার ৫ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত অবস্থান করেন নিজ চেম্বারে। অধিকাংশ সময় কর্মব্যস্ত জনগণের সুখদুঃখের কথা শুনে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া চেষ্টা করেন।

গ্রামীণ জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বিরোধ। সেই সমস্যা সমাধানে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে নিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরেছেন পুরো ইউনিয়ন জুড়ে। সপ্তাহে একদিন করে পুরো মাসে ৪০ থেকে ৫০ টি বিরোধ মীমাংসা করে থাকেন এই গ্রাম আদালতে। এর বাইরেও কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি।

সুদখোর মোকাবেলায় করেছেন গঠন কমিটি, কঠোর ভূমিকায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। মাদক নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধি , সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে প্রচারণা ও বাল্য বিবাহ রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ।

এছাড়াও নানান প্রয়োজনে সেবা নিতে আশা মানুষদের বিভিন্ন সাইজের মোটা খামে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদান করা হয় যা অনেকটাই বিরল। স্বল্প সময়ে তাকবীর হাসান দেশব্যাপী ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। করোনা কালীন সময়ে দেশের মানুষ, অর্থনীতি ছিলো চরম সংকটে। মানুষের দুঃখদুর্দশা দূর করতে নিয়েছিলেন ব্যাপক ভূমিকা। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করছেন। কাজের স্বীকৃতি সরূপ দুইবার জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হয়েছেন এছাড়াও বিভিন্ন পদকে ভূষিত হয়েছেন।

৭০ বছরের বৃদ্ধ পল্লী চিকিৎসক আফসার মন্ডল জানান, আমাদের এই ইউনিয়নে কোন ভোগান্তি নেই, দ্রুতই আমরা যে কোনো কাজের সমাধান পেয়ে থাকি। চেয়ারম্যান সাহেব খুব মনোযোগের সাথে আমাদের কথা শুনেন। সমাধানের চেষ্টা করেন।পূর্বে ইউনিয়নে ভোগান্তির শেষ ছিলনা। কোন কাজে আসলেই লম্বা লাইন অপেক্ষা করতে হতো। আগে ইউনিয়ন পরিষদের অবস্থা বেহাল ছিল। বর্তমানে ইউপির পরিপাটি অবস্থা শহীদ মিনার ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তিনি তৈরি করেছেন।

জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান তাকবীর হাসান জানান, বঙ্গবন্ধু আদর্শ বুকে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কাজ করে চলেছি। আমার সবথেকে বড় কাজ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করা, তাদের সুখেদুঃখে পাশে দাঁড়ানো। জনগণের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউপি জুড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ চলমান রয়েছে। ভালুকগাছী ইউনিয়নকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই নিরলস পরিশ্রম করে চলেছি।

আরেকটু বেশী বরাদ্দ পেলে ভালো হতো। আমি জনগণের সেবক তাই সেবা করার জন্যই সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি।