নিউজ ডেস্ক :-

তিনি বলেছেন, “আমার জীবনের কোনো মায়া নেই। আমার কিছু চাওয়ার নেই। আমার একটাই চাওয়া, যে আদর্শ নিয়ে আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছেন, তার সেই আদর্শ বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছে দেব। এটাই আমাদের প্রতিজ্ঞা।”

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে একথা বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সেনাবাহিনীর একদল সদস্য সপরিবারে হত্যা করেছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বিদেশে থাকায় বেঁচে যান দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

প্রতিকূল পরিবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। তারপর নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তিনি এখন টানা এক যুগ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, “জাতির পিতা রক্ত দিয়ে গেছেন এদেশের মানুষের জন্য, রক্ত দিয়ে গেছেন আমার মা, আমার ভাইয়েরা। আমিও সেই রক্ত দিতেই বাংলাদেশে পা রেখেছি।

“মৃত্যুতে সামনাসামনি দেখেছি। কিন্তু কোনোদিন আমি ভীত হইনি, আমি ভীত হব না। কারণ আমি প্রস্তুত। আমি তো জানি, যে কোনো মুহুর্তে আমাকে চলে যেতে হবে। যতটুকু সময় আছে দেশের জন্য কতটুকু করতে পারি। সেইটুকুই আমি চাই। এদেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে আমার বাবা, মা, ভাইয়ের আত্মা যেন শান্তি পায়, সেটাই আমি চাই।”

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার জন্য যখন কোনো হত্যাকাণ্ড হয়, তখন শুধু রাষ্ট্র প্রধান বা সরকার প্রধানকে হত্যার নজির থাকলেও বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে ঘাতকদের নির্মমতার কথা বলেন শেখ হাসিনা।

“বাংলাদেশে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটল, যেটা কারবালার সাথেই তুলনা করা যায়। কিন্তু সেখানেও কিন্তু শিশু, নারীদের হত্যা করেনি। বাংলাদেশে শিশু, নারীসহ কাউকেই রেহাই দেয়নি।”

শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ে জাতির পিতার আজীবন সংগ্রামের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি তার পাশে সব সময় থেকে অনুপ্রেরণা জোগানো নিজের মা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিবের কথাও স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

“আমার মা সব সময় একটা কথাই বলতেন যে দেশের জন্য তুমি (বঙ্গবন্ধু) কাজ করে যাও। বাকি সব দায়িত্ব আমার। সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন। আর যখন আমার বাবা জেলে থাকতেন, দলের কাজ করা, সংসারের কাজ করা, সবই তো তিনি করেছেন।”

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।