লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে রোজা রেখে এক কৃষকের ৪০ শতাংশ জমির ধান কেটে দিলো ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। আজ রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক হেলাল হোসেনের ধান কেটে দেয় তারা।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকবর হোসেন সুখীর নেতৃত্বে এতে অংশ নেয় রামগতি পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক সজিবুর রহমান সংগ্রাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মুশফিক মাহমুদ রোমান, ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল ইসলাম সাব্বির, ইয়াসিন আরাফাত মানিক, আবদুল মাজেদ রাজিব, আলাউদ্দিন, তারেক হোসেন, শাহিন আলম, রাকিবুল ইসলাম পারভেজসহ ২০ জন নেতাকর্মী। তারা রোজাদার ছিলেন বলে জানা যায়।

জানা গেছে, মেঘনা উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলা যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে কৃষকের স্বপ্নের ফসল আমন ধান মাঠে ধুলছে। প্রায় ৭০ শতাংশ জমির ধান পেঁকেছে। কিছুদিনের মধ্যেই সবাই ধান কেটে সংগ্রহ করবেন। এরমধ্যেই শুরু হয়েছে কালবৈশাখীর ঝড়। ইতিমধ্যে ঝড়ের তাপে প্রচুর ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ফের ঝড়ের তাণ্ডব থেকে রক্ষা পেতে কৃষকরা আগ থেকেই ধান কাটা শুরু করেছেন। এতে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এনিয়ে বর্গাচাষী হেলালও দুঃশ্চিন্তায় ছিলেন। আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল তিনি।

পরে শনিবার রাতে তিনি ছাত্রলীগ নেতা আকবর হোসেনের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি জানান। রবিবার সকাল থেকে দুপুরে পর্যন্ত রোজা রেখে কাজ করে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাঁর ক্ষেতের ধান কেটে দিয়েছেন।

কৃষক হেলাল হোসেন জানান, ক্ষেতের ধান পেঁকেছে। কখন কালবৈশাখী ঝড় এসে সবকিছুল লণ্ডভণ্ড করে দেয়। এনিয়ে বিপদে ছিলাম। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উদ্যোগ নিয়ে ধানগুলো কেটে দিয়েছেন। শ্রমিক খরচও বেঁচেছে, ফসলও রক্ষা হয়েছে। মানবিক ছাত্রলীগকে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

রামগতি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আকবর হোসেন সুখি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া ছাত্রলীগ সবসময় মানবিক কাজে এগিয়ে রয়েছে। কালবৈশাখীর ঝড়কে কেন্দ্র করে ক্ষেতের ফসল নিয়ে কৃষকরা দুঃশ্চিন্তা রয়েছে। তেমনি একজন কৃষক হেলাল হোসেন। খবর পেয়ে আমরা তার ফসলগুলো কেটে দিয়েছি। যে কারো বিপদে পাশে থেকে কাজ করতে ছাত্রলীগ সবসময় প্রস্তুত রয়েছি।’