টাইমস বাংলা নিউজ ডেস্ক :- 

ষড়যন্ত্রকারীদের সাবধান করে হুশিয়ারী বার্তা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ডা.সেলিম মাহমুদ। তিনি একটি বিশেষ বিবৃতি উল্লেখ করেন – আমরা লক্ষ করছি, গত কয়েক মাস ধরে দেশি-বিদেশি কিছু ষড়যন্ত্রকারী বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এটি নতুন কোনো ঘটনা নয়। ২০০৮- এর নির্বাচনের পর থেকেই তারা এই ষড়যন্ত্র করে আসছে। আল্লাহর অশেষ রহমত আর বাংলাদেশের জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন আর ভালোবাসা নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা তাদের প্রতিটি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছেন। এক একটি বৈদেশিক ঘটনাকে সামনে রেখে তারা নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। গত এক দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে যতবার সরকার পরিবর্তন হয়েছে, ততবার তারা বাংলাদেশ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখেছে আর ষড়যন্ত্রের জাল বুনেছে।

করোনা মহামারির কারণে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যখন মানসিকভাবে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে ছিল এবং এই ধরনের মানসিক চাপ যখন বাংলাদেশের অনেক মানুষের মধ্যে বিরাজমান ছিল, আর রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার সরকার যখন এদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার জন্য দিন-রাত কষ্ট আর প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময়ে এই চক্রটি তথাকথিত ‘সরকার পরিবর্তনের’ ঘৃণ্যতম ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিল।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে মহামারির কারণে ইউরোপের দুটি দেশে যখন ক্ষমতা পরিবর্তনের মাধ্যম জাতীয় নির্বাচন স্থগিত করা হয় এবং সেটি যখন সবাই মেনে নেয়, ওই সময়ে বাংলাদেশে সাংবিধানিক সরকারের মেয়াদ সাড়ে তিন বছর বাকি থাকতেই অসাংবিধানিকভাবে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের আলামত আমরা লক্ষ করেছিলাম।

সারা বিশ্বেই পেনডেমিকের সময় বিরোধীদলসহ রাষ্ট্রের সকল স্টেকহোল্ডার জাতীয় স্বার্থে সরকারকে সহযোগিতা করে। এটাই আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি। কারণ এই ধরনের সময়ে রাষ্ট্রকে অনেক দ্রুত ও জরুরি ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। জাতীয় স্বার্থে অনেক সিদ্ধান্ত প্রচলিত ও সনাতনি পদ্ধতির বাইরে বিশেষ ব্যবস্থায় নিতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে দেখলাম অন্য রকম চিত্র। একটি কুচক্রী মহল নিজেরা নিরাপদ অবস্থানে থেকে সতেরো কোটি মানুষের জীবন বাঁচানোর সংগ্রামে নিয়োজিত শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাত করতে গভীর ষড়যন্ত্র করেছিল। এরা জাতীয় শত্রু, এরা রাষ্ট্রদ্রোহী।

২০১১ সাল থেকে বেশ কয়েক বছর তারা ক্যাপিটাল হিল, স্টেট ডিপার্টমেনট, বিশ্বব্যাংক সদর দপ্তরে লবিইস্টদের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে তাদের ষড়যন্ত্রের পক্ষে কোনো ফল না পেয়ে হতাশ হয়েছে। এই অর্থের উৎস হচ্ছে বিদেশে পাচারকৃত বিএনপি-জামায়াতের হাজার হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার শক্তিশালী অবস্থানের কারণে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে বিদেশে লবিইস্টদের বাংলাদেশবিরোধী এই সকল অপতৎপরতা ভেস্তে যায়। বিগত কয়েক বছর থেকে অর্থ পাচারের অপরাধ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মহল বেশ তৎপর থাকার কারণে তারা মোটা অংকের টাকা লবিইস্টদের পেছনে খরচ করতে পারছে না। এছাড়া, বাংলাদেশ বিষয়ে এক দশকেরও বেশি সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তন হওয়ায় লবিইস্টদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ফল আসছিল না। গত এক দশকে লবিইস্টদের মাধ্যমে কোনো সুফল না পাওয়ায় অর্থ জোগানদাতারাও নতুন করে অর্থ দিতে নারাজ; যদিও এই অর্থ বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অবৈধ অর্থ যা বিএনপি-জামায়াতের লোকজন পাচার করেছিল। এই সকল কারণে এই চক্রটি আর অতীতের মতো লবিইস্টদের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে পারছে না। তাই তারা স্বল্প অর্থ ব্যয়ে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং পরে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণায় নামে। এই চক্রটিই পেনডেমিকের সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার করেছিল করোনায় বাংলাদেশে দুই মিলিয়ন অর্থাৎ বিশ লক্ষ মানুষ মারা যাবে। সর্বশেষ আল জাজিরায় বাংলাদেশবিরোধী রিপোর্ট প্রকাশ তারই অংশ। এই রিপোর্টে বাংলাদেশকে তারা একটা মাফিয়া রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছিলো। অথচ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনার বাংলাদেশ আজ পৃথিবীতে এক আদর্শ রাষ্ট্র।

এই চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা বাংলাদেশে আরেকটি এক/এগারো কিংবা ‘আরব বসন্ত’ ঘটানোর জন্য গভীর স্বপ্নে বিভোর। এই চক্রটির সদস্য দেশি-বিদেশি কিছু ব্যক্তি। এদের কেউ কেউ বর্তমান সরকারের সময়ই প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, এই সময়ই তাদের জৌলুস বেড়েছে। ষড়যন্ত্রকারীরা আজ দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের পক্ষে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কাজ করছে। আমাদের সময়ে তাদের শরীরে সঞ্চিত চর্বি তারা আজ আমাদের বিরুদ্ধেই ‘বার্ন’ করছে। তারা বাংলাদেশে একটা কিছু করতে চায়। তারা খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মা। একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের ঠিক আগের দিনও মোশতাকের ভূমিকা উন্মোচিত হয়নি। কিন্তু আজ তাদের কারো কারো ষড়যন্ত্র আমাদের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। এদের এখনই প্রতিহত করা দরকার।

তারা একের পর এক ষড়যন্ত্র করে ব্যর্থ হয়ে এবার আল জাজিরার আশ্রয় নিল। বাংলাদেশবিরোধী আল জাজিরার এই আজগুবি রিপোর্ট বাংলাদেশের মানুষ বর্জন করেছে। সম্প্রতি আমরা লক্ষ করেছি, কজন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আসামি বিদেশে পলাতক অবস্থায় ডিজিটাল মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও সাংবিধানিক সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে চরম উসকানিমূলক বিষোদগার ও অপপ্রচার করেছে, সেটি নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক অপরাধ।

তারা আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজের বিরুদ্ধে কিছু উদ্ভট ও হাস্যকর অপপ্রচার চালিয়েছে। তারা রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিষোদগার করেছে। বিশেষভাবে আমাদের জাতীয় সশস্রবাহিনী সম্পর্কে চরম বিষোদগার করেছে। তাদের কেউ কেউ আমাদের রাষ্ট্র ও পবিত্র সংবিধানের বিরুদ্ধে চরম অবজ্ঞামূলক মন্তব্য ও অপপ্রচার করেছে ।

তারা তিরিশ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে আখ্যা দিয়েছে ‘পরাধীন জনগণের রাষ্ট্র’ হিসেবে। তারা আমাদের সমাজকে আখ্যা দিয়েছে ‘পরাধীন সমাজ’ হিসেবে। এদেশে গণতন্ত্র নেই বলে নানা ধরনের মায়াকান্না করেছে। তারা মন্তব্য করেছে, সকল সেক্টরেই বাংলাদেশ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে! তাদের এই উদ্ভট মন্তব্য শুনলে সারা বিশ্বই হাসবে। কারণ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়নের সকল সূচকেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল।

 

টিবিএন/ আইএইচএস/ বার্তা