পরিবার’র সদস্যদের প্রাণের নিরাপত্তা চেয়ে ও বসত ভিটাতে নির্মিত ঘরে ফিরতে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার ৯নং শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর বল্লভপুর গ্রামের মোঃ জাফর উদ্দিন চৌধুরী’র স্ত্রী সাজেদা জাফর  চৌধুরী নামের এক গৃহবধু সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

 

৩১ জুলাই শনিবার সকাল ১১টায় একটি অফিস কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন’র আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাজেদা জাফর চৌধুরী’র স্বাক্ষরিত একটি পত্র পাঠ করেন।

 

এ সময় লিখিত তিনি জানান,

ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাংয়ের ধারক ও বাহক, ক্ষমতার অপ-ব্যবহারকারী, জোর-জুলুমবাজদের বিরুদ্ধে ও নিজ বসত বাড়ীতে প্রবেশ করতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

 

তিনি  আরো বলেন,

“আজ দুই বৎসর যাবত আমি, আমার পরিবারসহ এবং আমার ভাসুর পরিবার নিজ গ্রাম বসতবাড়ী উত্তর বল্লভপুর (দারোগাবাড়ী), পোঃ- দারোগাহাট, উপজেলা- ছাগলনাইয়া, ফেনীতে বসবাস করিতে পারছিনা। কেন পারছিনা তার ব্যাখ্যা নিম্নরুপ, যা আপনাদের মাধ্যমে তুলে ধরছি।

সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা,
গত ১৫/১২/২০১৬ইং তারিখ চেয়ারম্যান মহোদয়, ০৯ নং শুভপুর ইউনিয়ন, পল্লী আদালত কর্তৃক একটি সমন চিঠি পাই। যার বাদী ছিলেন (১) শাহরিয়ার আহাম্মেদ রঞ্জু, পিতা- মৃত সেকান্দার আহাম্মেদ, উত্তর বল্লভপুর দারোগাবাড়ী, থানা- ছাগলনাইয়া, হাল সাং-৬১৪ স্টেশনরোড় ফেনী।

(২) করিম উল্ল্যাহ, পিতা- মৃত রহিম উল্ল্যাহ, গ্রাম- উত্তর বল্লভপুর, ছাগলনাইয়া ফেনী। চিঠিতে আমার বসতবাড়ীর হিস্যা দলিল এবং বাড়ী ঘরের কাগজপত্রসহ পল্লী আদালতে চাওয়া হয়। তখন ঐ উক্ত তারিখ থেকে ০৩ বছর যাবত সকল কাগজপত্র আদালত চলাকালীন কর্মদিবসে উপস্থাপন করি। এর-ই মধ্যে আমাদের পরিবারের সকলের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক পুলিশি মামলা, রাস্তায় চলাচলে বাঁধা, কিশোর গ্যাং তৈরী করে রাস্তায় একা পেয়ে মুরুব্বিদের উপর হামলা, গালাগালি এবং গ্রাম্য ভিলেজ পলিটিকস্ এর মাধ্যমে হয়রানি ও অত্যাচার করা এসব নিয়মিত ব্যাপার ছিল। উক্ত বিচার পল্লী আদালতে চলা অবস্থায় এমন কোন অন্যায়-অত্যাচার বাকী রাখে নাই, যাহা তারা আমিসহ আমার পরিবারের উপর করে নাই। সকল সময় যতরকম দেশী অস্ত্র দ্বারা রক্তাক্ত আঘাত করেছে তার সকল প্রমাণ এবং ছবি সহ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি।

এ সময় তিনি আরো বলেন,
চেয়ারম্যান মহোদয় পল্লী আদালত শুভপুর এই মামলায় উভয় পক্ষের সম্পত্তির কাগজ দলিল এবং দুই পক্ষের দুইজন উকিল দ্বারা দেখে যাচাই বাচাই করে এবং ইউপি সদস্যদের নিয়ে এই মামলার জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। যার সভাপতি ছিলেন চেয়ারম্যান মহোদয়। দীর্ঘ ০৩ (তিন) বছর পর পল্লী আদালত কমিটি সম্পূর্ণ কাগজ যাচাই বাচাই করে আমাদের পক্ষে রায় দেন। এই রায় অমান্য করে জায়গার সুরাহার পক্ষে না গিয়ে উক্ত বাদীগণ এলাকার কিছু গুন্ডা-পান্ডা ছেলে-পেলে নিয়ে বিভিন্ন সময় আমার এবং আমার পরিবারের উপর ক্ষমতা ও টাকার জোরে স্ব-পরিবারে প্রাণ নাশের জন্য হামলা চালায়। যার প্রমাণ গত ০১/১০/২০১৯ইং তারিখ আমি এবং আমার বড় মেয়ে বাড়ী যেতে পথের মধ্যে দেশিয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে অন্তত ২০-৩০ জনের একটি দল সন্ধ্যার সময় আমাদের উপর হামলা চালায়। তখন আমার মেয়ে ছিল অন্তসত্তা। পরে বিষয়টি ফোনে থানাকে অবগত করলে রাত ৭ ঘটিকার সময় থানা থেকে এসে এস.আই জাহাঙ্গীর সাহেবের নেতৃত্তে¡ পুলিশ গিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা নুরু সাহেবের বাড়ী থেকে আমাদেকে উদ্ধার করে এবং সাথে ছাগলনাইয়া নিয়ে আসে। তার পরের দিন অর্থ্যাৎ ০২/১০/২০১৯ইং তারিখে আমার স্বামী সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় যখন মোটরসাইকেলে শুভপুর যাচ্ছিল তখন তার উপরও সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

তাকে বড় কাঠ দ্বারা আঘাত করে জখম করে। পরবর্তীতে এই বিষয় থানায় মামলা দিতে গেলে প্রশাসন মহোদয়গণ বলেন আপনাদের মামলা বা জিডি কোনটাই নেওয়া যাবে না। কারণ জানতে চাইলে প্রশাসন মহোদয়গণ বলেন আপনাদের ব্যাপারে উপরের বড় লেভেল থেকে ফোন এসেছে। তাই আমরা মামলা নিতে পারবো না। তার বিপরীতে উল্টো আমার স্বামী এবং আমার ভাসুরের নামে ডাকাতি মামলা দেওয়ার জন্য উপর মহল থেকে নাকি ফোন করা হয়েছে বা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা উক্ত বিষয়ে থানায় আইনের আশ্রয় চাইতে যাই যতবার, ততবারই থানা প্রশাসনকে বিভিন্ন উপর মহল থেকে ফোন করার কারণে প্রশাসন নিষ্ক্রীয় ভূমিকা পালন করেন। এক কথায় বিচারের বাণী নিবৃতে কাঁদে, এটাই বাস্তব হয়ে পড়ে। উক্ত তারিখ ০১/১০/২০১৯ইং তারিখ তখন থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের কে গ্রামের বাড়ীতে ডুকতে দিতেছে না। নানা ভাবে হয়রানি করে যাচ্ছে। আমরা উভয় পরিবার অনেক কষ্টে করোনা কালীন এই সময় বাসা ভাড়া করে আজ ২ (দুই) বছর যাবৎ উপজেলায় থাকতে হচ্ছে। আর আমার বাসুর অন্যের একটি ঘরে আশ্রিত অবস্থায় আজ দুই বছর মোটবী গ্রামে আছে। উক্ত মামলার সকল কপি গুলো আমার সাথে আছে। আপনার চাইলে আমি উপস্থাপন করতে পারবো। যাদের জন্য আমরা মূলত বাড়ীতে ডুকতে পারছি না। তারা হলেন,
১। শাহরিয়ার আহম্মেদ (রঞ্জু), পিতা- মৃত সিকান্দর আহম্মদ, উত্তর বল্লভপুর দারোগাবাড়ী, ছাগলনাইয়া, ফেনী। হাল সাং- ৬১৪ স্টেশন রোড, ফেনী।
২। করিম উল্ল্যাহ, পিতা- মৃত রহীম উল্ল্যাহ।
৩। আরিফুল ইসলাম, পিতা- দেলোয়ার হোসেন।
৪। নুরুল আফচার, পিতা- নুরুল আলম দরবেশ।
৫। সাইফুল ইসলাম (সুমন), পিতা- মৃত আবুল খায়ের।
৬। শহীদুল ইসলাম (তকির), পিতা- মনিরুল ইসলাম (চিনো)
৭। জাহাঙ্গীর আলম, পিতা- মৃত রুস্তম আলী।
৮। খোকন মিয়া, পিতা- মৃত রুস্তম আলী।
৯। জেসমীন আক্তার, স্বামী- নুরুল আবছার
সর্ব সাং- উত্তর বল্লভপুর, পোঃ দারেগার হাট, থানা/উপজেলা- ছাগলনাইয়া, জেলা- ফেনী।

 

লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন,

আপনাদের লিখুনির ও প্রচারের মাধ্যমে আমি উপরে উল্লেখিত বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী জননেন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর দৃষ্টি আর্কষণ করছি। এবং আমি আপনাদের মাধ্যমে জনাব ফেনী-২ আসনের সাংসদ জননেতা নিজাম উদ্দীন হাজারী এমপি মহোদয়, জেলা প্রশাসক মহোদয়, এস.পি মহোদয়, ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব মেজবাউল হায়দার সোহেল চৌধুরী মহোদয়, ইউএনও মহোদয়সহ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সুবিচার পাওয়ার প্রার্থনা করছি। সকলের কাছে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করতেছি। বিনা অপরাধে বড় বড় ক্ষমতাবান ব্যাক্তির টেলিফোন দ্বারা যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হই এবং গ্রামের বাড়ী ঘরে আমি এবং আমার পরিবারের সকল সদস্যগণ যেন নির্বিগ্নে চলাচল করতে পারি। সেই বিষয়ে আপনাদের সহযোগীতা কামনা করছি এবং ন্যায়বিচারের আসায় থানায় উপরে উল্লেখিত খারাপ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েী (জিডি) করতে পারি এই প্রত্যাশা কামনা করি। কারণ আমাদের পরিবারের সকলে এখন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। যাতে এই ক্ষমতাবান অন্যায় জোর জুলুম কারীদের হাত থেকে আমরা প্রাণে রক্ষা পেয়ে আমাদের নিজ বাড়ীতে বসবাস করতে পারি এই প্রত্যাশা করে ন্যায় বিচার কামনা করি। পরিশেষে আপনাদের সকলের সু-স্বাস্থ্য কামনা করে আমার বক্তব্য আজকের মত এখানে শেষ করছি। ধন্যবাদ সকলকে।”

 

ছাগলনাইয়ায় স্ব-পরিবার'র নিরাপত্তা ও বসত ভিটাতে ফিরতে এক গৃহবধুর সংবাদ সম্মেলন

ছাগলনাইয়ায় স্ব-পরিবার’র নিরাপত্তা ও বসত ভিটাতে ফিরতে এক গৃহবধুর সংবাদ সম্মেলন

 

তবে সাজেদা জাফর চৌধুরী’র অভিযুক্ত শাহরিয়ার আহম্মেদ রঞ্জু ও করিম উল্যাহ মোবাইল ফোনে টাইমস বাংলা নিউজকে জানান,

শাহরিয়ার আহম্মেদ রঞ্জু: সংবাদ সম্মেলনের আনিত অভিযোগ গুলো অধিকাংশ মিথ্যা। আমি ২০১৮সালে আমার ছেলের সাথে বিদেশে বসবাস করে আসছি। আজ অনেক বছর উত্তর বল্লভপুর গ্রামের যাই নাই। মামলায় চাপ প্রয়োগ করার কথাটিও মিথ্যা বরং বসত ঘর নিমার্ণ করার সময় আমরা সবাই মিলে আর্থিকভাবে সহযোগীতা করেছি।

করিম উল্যাহ: সংবাদ সম্মেলনের আনিত অভিযোগ গুলো সবগুলোই মিথ্যা। তারা নিজেরা নিজেরা ঝামেলা করে আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়ার পায়তারা করছে। আমি চাকুরি  জনিত কারণে দীর্ঘ ৪৫বছর বাড়ী ও গ্রামের বাহিরে থাকি। আমার বাড়ীতে আমার ঘরটি পর্যন্ত নেই। চাকরি শেষে হয়তো ঘর দূয়ার নিমার্ণ করিবো।