ফেনীতে পাগল বেশে পাওয়া এক বৃদ্ধকে গোসল করিয়ে নতুন জামা-কাপড় কিনে পরিয়েছেন মানবিক পুলিশের অন্যতম সদস্য আশিকুর রহমান। এই বৃদ্ধ আসলেই পাগল না পরিস্থিতির কারণে ঘর ছেড়েছেন বলে জানিয়েছেন বৃদ্ধ মানুষটি।  পরিবারের কাছে পৌঁছিয়ে আশিক সবার সহযোগীতা চেয়েছেন এবং কেউ চিনে থাকলে আশিকুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করছি ।
এছাড়াও আশিকুর রহমান ইতিপূর্বে অসংখ্য মানুষকে বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করেছেন, ঈদের পূর্বে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, রাতে বিভিন্ন স্থানে ঘুমন্ত মানুষদের মশারি প্রদান, রমজানে ইফতারী প্রদান, রক্ত দান, শীতার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ, রোগীদের ঔষুদ কিনে দেওয়া সহ বিভিন্ন মানবিক কাজ করে যান, যখনই সুযোগ পান।
বৃদ্ধকে খুজে পাওয়া নিয়ে এবং পরিবারের কাছে বার্তা পাঠানো নিয়ে মানবিক পুলিশের অন্যতম সদস্য আশিকুর রহমান তার এফবিতে একটি স্ট্যাস্টাস দিয়েছেন, সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
আমি পাগল নয়!
পরিস্থিতির শিকার?
এই কথা শুনার পর আমি বিস্ময় অবাক হয়। মনে হলো একটু কথা বলার দরকার যতক্ষন কথা বলছি ততক্ষণ আশ্চর্য হচ্চি। ফেনী পুলিশ লাইন্সের গেইটের সামনে দিয়ে এই ভদ্রলোক কে মাঝে মাঝে অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাঁটতে দেখি। পুলিশ লাইন কেন্টিন এর সামনে মাঝে মাঝে দাড়িয়ে থাকতে দেখি, কিন্তু কারো কাছে কিছুই চাই না, মানসিক ভারসাম্য মনে হলেও উনি খুব লাজুক প্রকৃতির মানুষ, কেউ নিজের থেকে কিছু খাওয়াতে চাইলে খায়। কথা বার্তায় খুব স্মার্ট শিক্ষিত মানুষ মনে হয় আমার কাছে।
উনার পোষাকের অবস্থা খুবি খারাপ, ভাবলাম নতুন জামা কাপড় নিয়ে দিবো, দেরি করি নাই, ফেনী শহরের একটি দোকান থেকে লুঙ্গি, শার্ট, গামছা নিয়ে আসি।
উনার শরিলে যে পরিস্থিতি একা পক্ষে সম্ভব না পরিষ্কার করা, পুলিশ সদস্য মোঃ কাদের ভাই পুলিশ লাইনে কর্মরত উনাকে ফোন করি সাথে চলে আসে বিস্তারিত বলি। ভাই সব কাজ বাদ, সেবা করার সুযোগ সব সময় আসে না। কথা শুনে মনটা বড় হয়ে গেলো।
উনাকে নিয়ে যায় গোসল করাতে উনি বাইনা ধরে বসেছে আজ নয় অন্য দিন গোসল করবো ২০ মিনিট বুঝানোর পর রাজি হলো। এর মধ্যে হটাৎ আমাদের আরেক সহকর্মী সবুজ ভাই হাজির, কথা ছাড়াই মানবিক কাজে অংশগ্রহণ করে, মনে হলো একাই একশো, অনেক সহযোগী করেছে। আমাদের কেন্টিন ছোট ভাই মাসুম অনেক পরিচ্ছন্নতায় সহযোগিতার করেছে।
এই মানুষটি পরিচয়!!
১। নাম- মোঃ সুমন মিয়া।
২। পিতা- মৃত মোশারফ হোসেন।
৩। শিক্ষাতগ যোগ্যতা- ডিগ্রী পাস।
৪। পেশা- চট্টগ্রাম কোর্টের রাইটার ছিলো।
৫। স্ত্রী নাম- ঝুমুর বেগম,
৬। দুই মেয়ে, বড় মেয়ের নাম- সুইটি আক্তার, ছোট মেয়ের নাম- শেলিনা আক্তার।
৭। গ্রাম- চন্দনাইশ, ০৬ নং ওয়ার্ড।
৮। থানা – চন্দনাইশ, জেলা – চট্টগ্রাম।
বাড়িতে থেকে উনি বাহির হয়েছে প্রায় তিন বছর পরিবারের কারো সাথে কোনো যোগাযোগ নাই।
সুমন ভাইকে তার পরিবারের কাছে যেতে সকলে সহযোগিতা কামনা করি।
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাপ্রবাহ স্মৃতিশক্তি নষ্ট করে দেয়। ফলে একসময় সে পাগল হিসেবে পরিচিতি পায়। পরিবারের কাছে এই প্রিয় মানুষ পাগল নয়। কারো ভাই কারো বাবা, কারো সন্তান।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর মানবিক সদস্য কং/ আব্দুল কাদের, কং/ সবুজ বৈদ্য।