ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সামনে পুর্ব বাঁশপাড়া নতুন পাড়ায় দোকানঘর ভাড়া নিয়ে সে দোকান দখল করার চেষ্টা করছে ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম। আবুল হাশেম বাঁশপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মুনাফের ছেলে। অন্যদিকে দোকান ঘরের মালিক নুরুল হক বাঁশপাড়া গ্রামের মৃত বজলের রহমানের ছেলে। ভাড়াটিয়া কর্তৃক এমন অনৈতিক আচরণে চরম বিপাকে পড়েছে অসহায় দোকান মালিক মোঃ নুরুল হক। সুত্র জানায়, গত ০১ জানুয়ারি ২০১৭ সালে ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম দোকান ঘর চুক্তিপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে মালিক নুরুল হকের নিকট থেকে ঘরটি ভাড়া নেয়। দীর্ঘ পাঁচ বছর ঘর ভাড়া প্রদান করলেও হঠাত ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম ওরফে টুপি হাশেম ভূমিদস্যু চক্রের সহযোগিতায় দোকান ঘরটি দখল করার পায়তারা করছে।

 

স্থানীয়রা জানান, দোকানটি দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর যাবত মালিক নুরুল হকের ভোগদখলে রয়েছে। একই বাড়ীর হাশেমকে দয়া দেখিয়ে অল্প টাকা মাসিক ভাড়ায় দোকানটি হাশেমের নিকট ভাড়া দেয় মালিক নুরুল হক। টানা পাঁচ বছর ঘর ভাড়া পরিশোধ করলেও হঠাত সে ভাড়া পরিশোধ করছেনা। দোকান মালিক নুরুল হক ঘর ভাড়া চাইতে গেলে ভাড়াটিয়া হাশেম অকাট্য ভাষায় গালমন্দ করে এবং দোকানটি তার নিজের বলে দাবি করে। দোকান ভাড়া চাইতে গেলে মালিক নুরুল হকের উপর হামলা করারও চেষ্টা করে হাশেম ও তার সহযোগিরা। দোকানের ভাড়ার টাকা চাইতে গেলে ভাড়াটিয়া হাশেম ও তার সহযোগিরা মালিকের উপর হামলা করে এবং মালিককে হয়রানি করার লক্ষে বিভিন্ন সময় মালিক নুরুল হকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করে।

 

কাগজপত্র বিশ্লেষণে জানাগেছে, এই দোকানের যাবতীয় কাগজপত্র নুরুল হকের নামেই রয়েছে। দোকান মালিক নুরুল হককে হয়রানি করার জন্য এবং মিথ্যা মামলা সাজানোর জন্য আবুল হাশেম নুরুল হকের সাথে দোকানঘর ভাড়া নেয়ার চুক্তিপত্র থাকা সর্তেও ভূমিদস্যু চক্রের অন্যান্য সদস্যকে মালিক সাজিয়ে নিজে ভাড়াটিয়া উল্লেখ্য করে ভুয়া চুক্তিপত্র তৈরী করে। অন্যদিকে, দোকান মালিক নুরুল হককে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা ও বানোয়াট একটি বন্টন মামলা দাখিল করে সে। যে জায়গায় ( বাঁশপাড়া মৌজার দাগ নং-২৬৪৫/২৭৪৯) মালিকানা পাবে দাবি করে হাশেমগংরা আদালতে বন্টন মামলা (নং-১৬/২০২১ইং) দায়ের করেছে সে জায়গায় তার দাদা মৃত চৌধুরী মিয়ার ৫.৫ শতক সম্পদ থাকলেও তিনি ১৯৬৮ সালে মন্তু মিয়ার নিকট ঐ দাগে ৬ শতক জায়গা বিক্রি করেছেন বলে দলিল সুত্রে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মজুমদার জানান, হাশেম যে দোকান ঘরে ব্যবসা পরিচালনা করছে সেটির মালিক নুরুল হক। অযথা হয়রানির উদ্দেশ্যে সে দোকান দখলের চেষ্ট করছে।

 

তবে দ্রুত সে দোকান ঘরটি মালিক নুরুল হককে বুঝিয়ে দিতে হবে বলে মন্তব্য করেন কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান। দোকানের ভাড়াটিয়া আবুল হাশেম ও তার সহযোগিদের অন্যায় অত্যাচারে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক হতাশা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ এভাবে অন্যের দোকান ভাড়া নিয়ে দখল করার সাহস করলে আশপাশের জায়গার মালিকরা চরম হুমকির মুখে পতিত হবে। এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ না নিলে সমাজে অনিয়ম অত্যাচার বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন স্থানীয়রা।

 

এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া তাহের জানান, এ দোকানের ভাড়াটিয়া দোকান ভাড়া পরিশোধ করছে অভিযোগ করে মালিক নুরুল হক আমার নিকট লিখিত অভিযোগ করলে আমি ভাড়াটিয়া আবুল হাশেমকে নোটিশের মাধ্যমে তলব করলেও সে হাজির হয়নি। হাশেম টানা দুই নোটিশে হাজির না হয়ে তৃতীয় নোটিশ পাঠালে সে আমাকে বিবাদী করে বিজ্ঞ আদালতে একটি দেওয়ানী মামলা ( নং-৩৫/২০২২) দায়ের করে। ইউএনও সাজিয়া তাহের জানান যে কেউ কারো বিরুদ্ধে ইউএনওর নিকট অভিযোগ করলে ইউএনও তাকে তলব করতেই পারে।