নিজস্ব প্রতিনিধি <> গত ৫০ বছরে দারিদ্র্য আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাধা কাটিয়ে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াকে ‘প্রেরণাদায়ক অভিযান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ঢাকা সফররত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। আর তাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হৃদয়ের গভীর থেকে উষ্ণ অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান শ্রীলঙ্কার সরকার প্রধান।
১৯ মার্চ ২০২১ বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর তৃতীয় দিনের আয়োজনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান রাজাপাকসে।
তিনি বলেন, ‘গত ৫০ বছরে দারিদ্র্য আর প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাধা কাটিয়ে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া একটি প্রেরণাদায়ক অভিযান; এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে, আপনার সরকারকে এবং বাংলাদেশের জনগণকে আমি হৃদয়ের গভীর থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানাচ্ছি।’
এ সময় বাংলা ভাষাতেও ‘ধন্যবাদ’ শব্দটি উচ্চারণ করেন তিনি।
রাজাপাকসে বলেন, ‘করোনা মহামারির প্রতিবন্ধকতার মাঝেও শ্রীলঙ্কার জনগণের পক্ষ থেকে সংহতি জানাতে আজ আমি এখানে এসেছি।’
দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস তুলে ধরে রাজাপাকসে বলেন, ‘১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর একটি নতুন দেশ হিসেব বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে শ্রীলঙ্কা ছিল অগ্রগণ্য।’
ঐতিহাসিক এ আয়োজনে যোগ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন শ্রীলঙ্কার শীর্ষ এই নেতা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতা ও মুক্তির জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তার প্রিয় মাতৃভূমির জন্য যে স্বপ্ন তিনি লালন করেছিলেনে, সেটা দেখার জন্য তিনি আজ আর বেঁচে নেই।’
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বেদনাতুর রাতের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘এই জাতি হারালো তার নায়ককে, জাতির পিতাকে। একইসঙ্গে একজন কন্যা হারালেন প্রিয় বাবা, আর পরিবার পরিজনদের।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আজ আপনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তা আপনার বাবাকে আরও সম্মানিত করেছে।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নে প্রতিবেশি রাষ্ট্র এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে সবসসময় শ্রীলঙ্কা পাশে আছে জানিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গোপসগরের সুনীল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে আপনার (শেখ হাসিনা) যে প্রস্তাবনা, সমুদ্র নিয়ে আমাদের পরিকল্পনাকে অনুপ্রাণিত করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তির উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।’
গত কয়েক দশক ধরে কৃষিখাতের উন্নয়নের দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক অব্যাহত আছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ খাতে সক্ষমতা বাড়াতে আমাদের সহযোগিতা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এ খাতকে আরও এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করতে চাই।’