ফেনীর ছাগলনাইয়া স্কয়ার হসপিটাল’র কর্তৃপক্ষ ও চাকুরীচ্যুত কর্মচারী ও শেয়ার হোল্ডার পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে চাকুরীচ্যুত সহকারী ম্যানেজার ও সেয়ারহোল্ডার উম্মে সালমা এবং বিকেলে ছাগলনাইয়া স্কয়ার হসপিটাল কর্তৃপক্ষ একে অন্যের উপর বিভিন্ন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এই দিন সকাল ১১টায়  ছাগলনাইয়া স্কয়ার হসপটাল এন্ড ডিজিটাল ল্যাবর সদ্য চাকুরীচ্যূত সহকারী ম্যানেজার  ও নারী শেয়ার হোল্ডার উম্মে সালমা।
ছাগলনাইয়া স্কয়ার হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ল্যাব’র এমডি একরামুল হক রানার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অসৌজন্যমূলক আচরন, আপত্তিকর কথা বার্তা, গায়ে হাত দেয়ার চেষ্টা ও উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেন তাঁর সহকর্মী ওই নারী।
এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া স্কয়ার হসপিটাল এন্ড ডিজিটাল ল্যাব’ ভাইস চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগ সবগুলোর মধ্যে সামান্যতম সত্যতা পেলে অভিযুক্ত যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযোগকারী ওই নারী ছাগলনাইয়া স্কয়ার হসপটাল এন্ড ডিজিটাল ল্যাব’র সহকারী ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ওই কর্মকর্তা প্রায় সময় আমাকে তাহার সাথে সময় দেয়ার কথা বলত। মাঝে মধ্যে কোন কাজ ছাড়াই তাহার রুমে ডেকে নিত এবং গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করতো। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রকার অঙ্গভঙ্গি করাসহ মোবাইলে ম্যাসেজের মাধ্যমে আজেবাজে ইঙ্গিত প্রদান করিত। এরই মধ্যে গত ১০আগষ্ট আমাকে তাহার সাথে কক্সবাজার যাওয়ার কথা বলেন। আমি রাজি না হওয়ায় তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। এছাড়াও পিসি হিসেবে নামে বেনামে তিনি নিয়মিত হাসপাতালের টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, সহজে টাকা আত্মসাৎ করার লক্ষ্যে তিনি ম্যানেজারের দায়িত্ব দিয়েছেন তার বাগিনাকে। ফেনী থেকে প্রসুতি ও বাচ্চা মেরে ফেলার ঘটনায় চাকুরিচ্যুত হওয়া তার বাগনী নন ডিপ্লোমা সিস্টার লিপিকে অন্যায়ভাবে সিস্টার ইনচার্জ বানিয়েছেন। ডিউটি ডাক্তারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে রোগীর এনেসথেসিয়া দিয়ে থাকেন। ফলে চরম ঝুঁকির মধ্যে এখানে রোগীদেরকে চিকিৎসা নিতে হয়।
এদিকে বিকাল সাড়ে ৪টায় হাসপাতালে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযুক্ত ছাগলনাইয়া স্কয়ার হসপটাল এন্ড ডিজিটাল ল্যাব‘ এমডি একরামুল হক রানাসহ হসপিটাল’র কর্তৃপক্ষ। এ সময় লিখিতভাবে উক্ত সাংবাদিকদের বলেন, উম্মে সালমাকে শেয়ার হোল্ডার হিসেবে সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্ব বসিয়েছিলাম। কিন্তু হসপিটাল’র রোগীদের বকেয়া টাকা আদায় হলে নিজ পকেটে নিয়ে চলে যেতো। যাহা হাতেনাতে ধরা পড়লে এবং হসপিটাল স্টাফদের সাথে বাঝে ব্যবহার করা সহ বিভিন্ন অনিয়ম চোখে পড়লে হসপিটাল পরিচালনা পর্ষদ’র সম্মতিতে তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়।
চাকুরীচ্যুত হয়ে সালমা আমার ব্যাপারে আবোকতালোক কথা বলতে থাকে।  আমার বিরুদ্ধে তার আনিত সকল অভিযোগ  মিথ্যা ও বানোয়াট। সে যদি তার অভিযোগের প্রমাণ দিতে পারে তাহলে আমি প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি মাথাপেতে নিবো। আর যদি না পারে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবো।
এ সময় হসপিটাল’র পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, ছাগলনাইয়া স্কয়ার হসপিটাল’র উপদেষ্টা আজিজুল হক, চেয়ারম্যান ফজলুল হক কাজল, অর্থ পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন।