ফেনীতে দিন দিন আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। অনেক শিশু প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার আগেই বিভিন্ন কাজ করে অকালে ঝরে পড়ছে।

 

শিশুদের যে বয়সে বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সে বয়সেই তারা বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরা, চা-ষ্টল, ইট ভাঙ্গা, টোকাই, হকার, রিকসা চালানো, টেম্পু ও বডবডীর হেলপার, দোকান শ্রমিক, গৃহ পরিচারিকা ও হাট বাজারে বিভিন্ন পন্য বিক্রিসহ নানা প্রকার কঠিন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে জড়িয়ে পড়ছে।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনেক শিশুই এ কাজ করতে গিয়ে প্রায় হাত পা কেটে, ভেঙ্গে, ড্রিল মিশিনের আঘাতে, ওয়ার্লিং এর আগুনে পুড়ে, প্রতিবন্ধী হয়ে অকালেই ঝরে পড়ে যায়।

 

অনেক শিশুকে হতে হচ্ছে মালিকদের শারিরীক ও মানসিক নির্যতনের শিকার। আবার অনেক শিশুরা নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে। দারিদ্রতার কারণে অনেক অভিভাবক তাদের শিশুকে স্কুলে না পাঠিয়ে জীবন-জীবিকার সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পাঠাচ্ছেন। 

 

ফেনীতে অকালে ঝরে পড়ছে শিশুরা

ফেনীতে অকালে ঝরে পড়ছে শিশুরা

কেউ কাপড় দোকানে, কেউ মেটাল ওয়ার্কসপে আবার কেউবা ইটভাটা ও কলকারখানায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। এর মধ্যে অধিকাংশই অতি দরিদ্র ও বিত্তহীন পরিবারের সন্তান। বাংলাদেশের শ্রম আইন ২০০৬ অনুসারে শ্রমিকের বয়স ১৪ বছরের নিচে হওয়া যাবে না।
৫ ঘন্টার বেশি কাজ করানো যাবে না। বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। কিন্তু এ আইন মানছেনা কোন মালিক কিংবা অফিসের কর্মকতারা। শিশু শ্রমিক রাজিব জানান, আমি স্কুলে ভর্তি হতে চেয়ে ছিলাম, কিন্তু দারিদ্রার কারণে তাদের পরিবার এক বেলা খেলে দু’বেলা উপোষ থাকতে হয়। ফলে তাকে স্কুল চেড়ে সারাদিনে দু’শ থেকে আড়াই’শ টাকা পাওয়ার আশায় সবজি বিক্রয় করতে হচ্ছে।

আরেক শিশু শ্রমিক সজিব জানান, আমি ক্লাস সিক্স পর্যন্ত প্রতি বছর ভালো রেজাল্ট করতাম। কিন্তু পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে স্কুল ছেড়ে বেঁছে নিই মেটাল ওয়ার্কসপের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ।

সমাজকর্মী এনায়েত উল্যাহ সোহেল বলেন, বর্তমান সরকারের নানা উদ্যোগের পরও প্রাথমিক মাধ্যমিক ও কলেযে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া আশানুরূপ কমছেনা। প্রাথমিকে ছেলেদের ঝরে পড়ার সংখ্যা বেশি হলেও মাধ্যমিক ও কলেজে মেয়েদের ঝরে পড়ার সংখ্যা বেশি। কারণ দরীদ্র পরিবারের মেয়েদের বিয়ে হওয়ার কারনে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়।
তাই শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য এবং ঝরে পড়া শিশুদের সংখ্যা কমানোর জন্য সমাজের মানুষগুলোকে সচেতন করতে হবে এবং প্রয়োজনে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রধান করতে হবে। একটি সুশিক্ষিত জাতি গঠনে এখনই আমাদের ভাবতে হবে যাতে শিশুরা অকালে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়।