দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ দেড়শো আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলনকক্ষে এ বিষয়ে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। বৈঠক শেষে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১৫০ আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তের কথা জানান ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ।

এ ছাড়াও বৈঠকে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপ-নির্বাচন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে আগামী ১২ অক্টোবর এবং ৬১ জেলা পরিষদের ভোটগ্রহণ ১৭ অক্টোবর।

এর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির সংলাপে ২২টি দল ইভিএম নিয়ে মতামত তুলে ধরে। এর মধ্যে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টিসহ ১৪টি দল এ যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে সংশয়-সন্দেহ প্রকাশ করে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি দল সরাসরি ইভিএমের বিরোধিতা করে।

 

অন্যদিকে আওয়ামী লীগসহ চারটি দল ইভিএমে ভোট গ্রহণের বিষয়ে মত দেয়। আর কয়েকটি দল শর্তসাপেক্ষে ইভিএমের পক্ষে মতামত দেয়। তবে বিএনপিসহ ৯টি দল ইসির সংলাপ বর্জন করে। তারাও ইভিএমের বিপক্ষে। তারা কোনোমতেই এটির মাধ্যমে ভোট চান না।

ইভিএম-এর প্রকল্প পরিচালক কর্নেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে জানান, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ইভিএমে ভোট করতে চাইলে কমিশনকে এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

এ নিয়ে ২১ আগস্ট নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর ইসি ভবনে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ইভিএম ব্যবহার হবে; কিন্তু কত আসনে হবে, তা নিয়ে আমরা এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পরিনি। এটা নিয়ে আমরা মতবিনিময় করছি, আলোচনা করছি। আমাদের সক্ষমতা কী আছে, কত ইভিএম আছে, আমাদের প্রশিক্ষিত জনবল কত আছে, সাপোর্টিং জনবল কত আছে, এগুলো দেখছি, এগুলো দিয়ে কত আসনে ভোট করা যাবে। আর যদি বেশি করতে চাই, আরও কত (ইভিএম) লাগবে, তাতে কত টাকা লাগবে, এ জন্য নতুন প্রজেক্ট নিতে হবে কি না, সেই সময় আমাদের আছে কি না, প্রকিউরমেন্ট করতে, প্রশিক্ষণ দিতে, এসব নিয়ে আলোচনা চলছে।