রাজশাহী প্রতিনিধি :-

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের রাতোয়াল মৌজায় অবস্থিত অনাবাদি ও নিচু জলাভূমিতেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পুকুর খনন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ফলে বিপাকে পড়েছে মালিক ও খননকারী। তারা তাদের উক্ত জোতভূমির মান উন্নয়ন সহ অধিক লাভবান হওয়ার আশায় তাদের নিজ নামীয় ও দখলীয় ব্যক্তি মালিকাধীন জোত ভুমি কৃষির আওতাধীন মৎস্য চাষযোগ্য করার পরিকল্পনায় প্রতি বছর বিঘা প্রতি ৩০,০০০ টাকায় পুকুর খননের জন্য পার্শ্ববর্তী বাগমারা থানাধীন রামগুইয়া গ্রামের শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমানের ছেলে মোঃ আব্দুল লতিফ এর সহিত ১০ বছরের মেয়াদে ১ টি লিখিত চুক্তিবদ্ধ হয়।

উক্ত চুক্তি মোতাবেক চুক্তি গ্রহিতা তিনি জমির মালিকদের অগ্রিম বাবদ টাকা পরিশোধ করেন এবং চুক্তির শর্ত মোতাবেক উক্ত চুক্তি দলিলের তফসিল বর্ণিত অনাবাদি ও নিচু জলাভূমিতে মৎস্য চাষের জন্য পুকুর খনন কাজ শুরু করেন। তিনি ইতিমধ্যে প্রায় ৩ ভাগ কাজ সমাপ্ত করেন।

কিন্তু গত ১১ জানুয়ারী স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ ও বাঁধার মুখে উক্ত পুকুর খনন কাজ প্রায় ২ সপ্তাহের অধিক সময় বন্ধ থাকায় চুক্তি গ্রহীতা অথর্যাৎ পুকুর খননকারীর ব্যপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন। ইহাতে জমির মালিকগন বিপাকে পড়েছে।

আবার খননকারী পুকুরের খনন কাজ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কোন ভাবেই তাদের উক্ত জোতভুমির বাকি খাজনা বাবদ টাকা পরিশোধ করবেন না। এছাড়াও উক্ত জোত ভুমির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত ভয়াবহ। যেমন না পুকুর, না সমতল, না জলাশয়। কোন অবস্থাতেই বাকি খনন ব্যতিত অন্য কোন উপায়ে ভবিষ্যতে উক্ত জোত ভুমি ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

অবস্থাগত কারণে উক্ত জোত ভুমির মালিকগণ ও লীজ-গ্রহীতা, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করে অবশিষ্ট খনন কাজ সমাপ্ত করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। তারা উক্ত আবেদনে বলেন যে উক্ত জোত ভূমি সম্পুর্ণরুপে অনাবাদি ও নিচু জলাভূমি।

 

 

 

শুধুমাত্র ভূমির মান উন্নয়ন ও মৎস্য চাষের লাভের পরিকল্পনায় পুকুর খনন কাজ শুরু করেন এবং উক্ত পুকুর খননের ফলে ভূমির মান উন্নয়ন ঘটলে পরিবর্তিত শ্রেণি-মোতাবেক সরকারী খাজনা প্রদান করবেন। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে কোন নির্দেশনা বা সাড়া মিলছেনা। তাই বর্তমান এই অবস্থায় উক্ত জোত ভুমির মালিকগণ যেমন একদিকে ভীষন বিপাকে পড়েছে অন্যদিকে খননকারী দিশেহারা।

খননকারী বলেন যে, যদি আমি উক্ত পুকুরের অবশিষ্ট খনন কাজ সমাপ্ত করতে না পারি তাহলে ঋণের দায়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপন ব্যতিত আমার জন্য আর কোন পদ খোলা নেই। এছাড়া তিনি আরো বলেন যে, খনন কাজে ব্যবহৃত ৪টি ভেকু মেশিনের মালিকগণ তারা ইতিমধ্যে টাকার জন্য আমাকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে।

তাই এ অবস্থায় জমির মালিকগণ ও খননকারী উভয়ে চুক্তির বর্ণিত তফসিলীয় জোত ভুমিতে বন্ধ থাকা অবশিষ্ঠ খনন কাজ সমাপ্ত করার জন্য জেলা প্রশাসক মহোদয় রাজশাহীসহ স্থানীয় সকল প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করছেন।