জহিরুল ইসলাম রাজুঃ- 

 

প্রতিবছর বর্ষার শুরুতেই দু-একদিনের বৃষ্টি ও ভারতীয় উজানের পানিতে টইটুম্বুর হয় মুহুরী নদী। সামান্য বৃষ্টির পানিতে নদীর পানির ভারসাম্য হারিয়ে ভেঙ্গে যায় বেড়িবাঁধ। বছরের-পর-বছর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই জনপদের সাধারণ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বসতবাড়ি ফসলি জমি ও মাছের ঘের। তবে প্রতিবছর বন্যায় বেড়িবাঁধ ভাঙলেই মেরামত ও স্থায়ী বাধের মিথ্যে আশ্বাস দেন জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের মে থেকে জুনে একাধিকবার ফুলগাজী সদরের দৌলতপুর, বররইয়া, ঘনিয়া মোড়া ও দেড়পাড়াসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধে ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়। প্রতিবছরই উপজেলা ও জেলা প্রশাসন থেকে সামান্য সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে থাকেন তবে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়না। এ বছরও বর্ষা শুরু হতেই দু-দিনের বৃষ্টিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয় মুহুরী নদী।

৬ জুন রবিবার ফুলগাজী সদরের উত্তর শ্রীপুর গ্রামের নাপিত কোনা অংশে আবারও মুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয় লোকালয়। পানির তীব্র স্রোতে গাছপালাসহ ভিটেবাড়ি হারায় একাধিক পরিবার।

ভুক্তভোগীরা জানান, গত রাত ১১ টার দিকে সরকারি সেচ প্রকল্পের জন্য বসানো পাইপের পাশ থেকে পানি চুকিয়ে পরে পাশে বালু সরে গিয়ে এই ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা অনেক চেষ্টা করেও কোন ভাবে রক্ষা করতে পারিনি। তাৎক্ষণিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের কে ফোন করা হলেও তারা কোনো রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। রাতের অন্ধকারে গাছপালাসহ বাড়ির একাংশ পানি স্রোতে ভেসে গেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিবছর বন্যায় বেরিবাধঁ ভাঙলেই তাৎক্ষণিক ইউএনও বা জনপ্রতিনিধিরা আমাদের খোঁজখবর নিতেন তবে এবার ইউএনও টিএনও কেউই খোঁজখবর নেয়নি এবং কোন সহযোগিতাও করেনি। তবে ফুলগাজী থানার অফিসার ইনচার্জ এএনএম নুরুজ্জামান ও ফুলগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ভাঙ্গনস্থান পরিদর্শন করেছেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী আরেক পরিবারের এক সদস্য জানান, সরকারি সেচ প্রকল্পের পাইপের পাশে দিয়ে যখন পানি যাচ্ছিল তখন আশপাশের মানুষকে ডেকে মেরামতের চেষ্টা করেছিলাম তবে পানির তীব্র স্রোতে কোন চেষ্টাই কাজে আসেনি। সেচ প্রকল্পের ঠিকাদারের গাফিলতিতে কারণে ভিটেমাটি গাছপালাসহ আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরা এসবের স্থায়ী সমাধান চাই।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী হারুনুর রশীদ জানান, গতকাল মুহুরী নদীতে বিপদসীমার প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার উপরে পানি প্রবাহিত হয়েছে। পানির অতিরিক্ত প্রেসারে বেড়িবাঁধ অংশে ছোট ছোট ছিদ্র হয়ে পরবর্তীতে বড় আকার ধারণ করে এই ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। রাতে আমরা এখানে ভাঙ্গনের তথ্য জেনেছি সকালে ভাঙ্গন মেরামতে সকল ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ মেরামত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়ি ভিটা আগের মতো মাটি দিয়ে ভরাট করে দেয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবো।

এসব বিষয়ে জানতে ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।