সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ পূর্ব চরছান্দিয়া গ্রামের নদীভাঙ্গন এলাকায় পূ্র্বশত্রুতার জেরধরে আকলিমা আক্তার ও তাছলিমা আক্তার নামে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দু’বোনকে মারধোর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাদীপক্ষের লিখিত এজাহার ও মৌখিক বক্তব্যে জানা যায়- মাওঃ কালিম উল্যাহ, মোশারফ হোসেন ও আলমগির এর নির্দেশে বিবাদী একই গ্রামের মৃত বেছুমিয়ার পূত্র জসিম উদ্দিন (৪৩) জসিম উদ্দিনের ছেলে মোঃ রিয়াদ (২৫) মৃত আবদুর রাজ্জাকের ছেলে মাঈন উদ্দিন (৩৫) সাহাব উদ্দিন (৬০) ও তার ছেলে বেলাল হোসেন (৪০) মান্না (২৩) বেলালের ছেলে মোঃ সুজন (২২) সহ অজ্ঞাতনামা আসামীগণের সাথে বাদীর পূর্ব থেকে বিরোধ ও মামলা মোকাদ্দমা চলমান রয়েছে।

বিবাদীরা বিভিন্ন সময় মামলা প্রত্যাহার করার জন্য হুমকি ধমকি দিয়ে থাকে। গত ১৬/০৪/২০২১ ইং রাতে স্থানীয় ওয়াবদা কলোনীর মুখে নিজামের চা’য়ের দোকানে বাদীনির ছেলে মেহেদি হাছান সানি (১৫) কে একা পেয়ে মারধোর করার খবর পেয়ে তাছলিমা আক্তার ও আকলিমা আক্তার দুইবোন ছেলেকে ছাড়িয়ে আনতে সেখানে গেলে বিবাদীগণ তাদের মারধোর করে ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। মারধোর ও আঘাত করায় তাদের শরীরে মারত্মক ফোলা ও জখম হয়।

বর্ণিত বিবাদীরা তাদের সাথে থাকা মোবাইল ও স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় বলে বাদীনি আকলিমা আক্তার ও তার বোন তাছলিমা আক্তার গণমাধ্যম কর্মীদের জানান। তারা বাংলাদেশ পুলিশের জরুরি পরিসেবা ৯৯৯ নাম্বারে কল করলে সোনাগাজী মডেল থানার এস আই নওশেদ কোরায়শীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সোনাগাজী হাসপাতালে ভর্তি করেন।

তাছলিমা আক্তার আরো জানান- তিনি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক, তার বোন রোকেয়া আক্তার ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য। অপরবোন আকলিমা আক্তার (৩০) সহ তাদের পরিবারের সদস্যগণ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

বাদীনি বিভিন্ন মিছিল মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করেন সেটা প্রতিপক্ষের পছন্দ নয়। তারা বিভিন্ন সময়ে নানান অজুহাতে তাদের অনুসারীদের লেলিয়ে দিয়ে মারধোর ও হয়রানি করে থাকে। বিবাদীগণের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে সোনাগাজী মডেল থানায় তাছলিমা আক্তার বাদী হয়ে মামলা নং SDR-1174 ও মামলা নং SDR-1561 দায়ের করেন।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আকলিমা আক্তার ও তাছলিমা আক্তার প্রতিপক্ষ আসামীদের বিচারের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান। অভিযোগ প্রসঙ্গে মাওঃ কালিম উল্যাহ জানান- যতদূর জানি, নদীভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা ওয়াবদা কলোনীতে বসবাস করে, সেখানে বসবাসকৃত জমির ইজারা সংক্রান্ত বিষয়ে অপরাপর লোকজনের সাথে বিরোধ রয়েছে।

এই বিষয়ে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। চরছান্দিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিলন জানান- তাদের জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে মারামারি ও থানায় অভিযোগের বিষয় শুনেছি। বিষয়টি নিষ্পত্তি কল্পে আমি উভয়পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে ডেকেছি।