নিজস্ব প্রতিনিধি <>

১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে মারছে বাংলাদেশের মানুষ। বাঙালিরাও চুপ নেই; সাধ্যমতো প্রতিরোধ গড়ে তুলছে।
এর মাঝেই ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার (বর্তমান মুজিবনগর) এক আমবাগানে শপথ নেয় বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের মন্ত্রিপরিষদ।
সে সময় ভারত থেকে মেহেরপুরের যে পথ ধরে রাজনীতিক, বিদেশি সাংবাদিকরা বৈদ্যনাথতলায় এসেছিলেন তা কালের সাক্ষী হয়ে আছে।
ঐতিহাসিক এই সড়ক দীর্ঘদিন অবহেলিত অবস্থায় ছিল, পিচ ছিল না কোথাও। বাইসাইকেল নিয়েও চলা যেত না এই সড়কে। যেন স্বাধীনতাকামীদের পথ দেখিয়েই সড়কটির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই এবড়োথেবড়ো হয়ে যাওয়ার পরও সড়কটি নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা দেখা যায়নি।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী সামনে রেখে এই সড়ক নজরে আসে। শুরু হয় নির্মাণ কাজ, যা এখন প্রায় শেষ দিকে।
গত ১৪ জানুয়ারি মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্স পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম মেহেরপুরের মুজিবনগরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে স্বাধীনতা সড়ক সংস্কার কাজ শুরুর কথা জানান। কাজ শেষ হলে কিছু শর্ত পূরণ করে সেখানে ইমিগ্রেশন কার্যালয় চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহীন আক্তার নিউজবাংলাকে জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি চুক্তির পর শুরু হয় কাজ। ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়ক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ অংশের ৩৮৫ মিটারের কাজ প্রায় শেষের পথে। আশা করা হচ্ছে, ২৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সড়কটি উদ্বোধন করতে পারবেন।
একাত্তরের যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী রণজিৎ মণ্ডল এই সড়ক নির্মাণে দারুণ খুশি। নিউজবাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই সড়ক দিয়েই জাতীয় চার নেতা এখানে আসেন। শপথ নিয়ে আবার এই সড়ক দিয়েই নিরাপদে ফিরে যান ভারতে। অনেক দেশি-বিদেশি সাংবাদিকও এই পথে যাতায়াত করেন, যারা সরকার গঠনের বিষয়টা আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরেন।
‘আজকে আমরা খুশি। এই সড়কটা অনেকদিন অবহেলিত ছিল। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের এই সরকার এসে এর পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু করে। একদিন এই সড়কই ভবিষ্যত প্রজন্মকে শপথগ্রহণের ইতিহাস মনে করিয়ে দেবে।’
মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, ‘এই সড়ক ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বের কথাও মনে করিয়ে দেয়।’
স্বাধীনতা সড়কটি বাকি ১১৫ মিটার পড়েছে আন্তর্জাতিক সীমানায়। নির্মাণকাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তা বন্ধ করে দেয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ অংশের কাজের জন্য দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তিপত্র লাগবে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।