টাইমস বাংলা নিউজ ডেস্ক :- 

 

বাংলাদেশ তার বুকে প্রায় ৭০০ এর অধিক নদীকে ধারণ করে। আমাদের দেশের প্রতিটি কোনে কোনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এসব নদী। বলা যেতে পারে বাংলাদেশে নদী গুলো অনেকটা জালের মত করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তবে বাংলাদেশ কখনো আক্রমণের শিকার হলে এই নদী গুলোকে ন্যাচারাল ব্লক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। আর নদীমাতৃক দেশ হিসেবে এই নদী গুলোকে ব্যবহার করে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলা সে সাথে প্রয়োজনে নদী পথে সামরিকবাহিনীর ভারী সরঞ্জাম গুলো ট্রান্সপোর্ট করা বেশ চ্যালেঞ্জিং বিষয়। তাই এ বিষয়টি মাথায় রেখে গঠন করা হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রিভাইরান ইউনিট। যদিও এই ইউনিটটে অল্প পরিমানে জলযান যুক্ত করা হয়েছে, আর এই ইউনিটের উন্নয়নে এখনো কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। যাই হোক আজ আপনাদের জানাবো এই ইউনিটে থাকা এলসিটি শক্তি সঞ্চার নিয়ে।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে দেশে তৈরি এলসিটি হচ্ছে এই শক্তি সঞ্চার। আমাদের দেশের অন্যতম জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান খুলনা শিপইয়ার্ড এটি তৈরি করে। এর সাহায্যে ট্যাংক, সাজোয়া যান, সেনা সদস্য সহ প্রয়োজনীয় রসদ নদীপথে পরিবহন করানো যায়। এটি সর্বোচ্চ ৪৪০ মেট্রিক টন ওজন বহন করতে সক্ষম। এই এলসিটি একই সময়ে ৯টি ট্যাংক বা ১২ টি সাজোয়া যান সাথে ১৫০ জন সেনা সদস্য নিয়ে দুটি ইঞ্জিনের সাহায্যে সর্বোচ্চ ১৮ নট গতিতে চলতে সক্ষম। তাছাড়া এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টার ল্যান্ড করানোর মতো বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে মোট ২টি এলসিটি রয়েছে। এগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দুইটি ভারী মেশিনগান যুক্ত করা আছে। হাই স্পিড বোট বা টহল বোটের মাধ্যমে এর বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। এর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা হিসেবে দুইটি ৫০ কিলোওয়াটের জেনারেটর ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের সাথে ৭৭০ মিলিয়ন খরচে আরও দুইটি এলসিটি ক্রয়ের চুক্তি করেছে। ২০১৮ সালে সমুদ্র পথে ট্রান্সপোর্টে সক্ষম হবে এমন ৪ টি এলসিটি ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নেয় সেনাবাহিনী। বর্তমানে যেগুলোর ক্রয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলো ডেলিভারি সম্পন্ন হলে রিভারাইন ইউনিটের পরিবহন সক্ষমতা আরও অনেক বেড়ে যাবে।

ভিশন ২০৩০ এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এরকম আরও ৮-১০ টি এলসিটি অপারেট করার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে।

CR: Bangladesh Military Affairs

 

টিবিএন/ আইএইচএস