ফেনীর ছাগলনাইয়ায় জামায়াত নেতার মিথ্যা মামলায় বার বার হয়রানীর শিকার ভোক্তভোগী পরিবারের প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছাগলনাইয়া সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, ফেনী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফেনী জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ভূক্তভোগী জহিরুল ইসলাম জহির।

 

১৫ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুর ৩টায় ছাগলনাইয়া একটি রেষ্টুরেন্টে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

এ সময় উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে ভূক্তভোগী জহির একটি লিখিত সংবাদ সম্মেলন পত্র পাঠ করে শুনান। পাঠকদের জন্য উক্ত লিখিত সংবাদ সম্মেলন পত্র হুবহু তুলে ধরা হলো :

‍‌‌”প্রিয় কলমযোদ্ধা সাংবাদিক বন্ধুগন আসসালামুআলাইকুম ।
আমি মোঃ জহিরুল ইসলাম, পিতা- মাষ্টার ওবায়দুল হক, সাং- পশ্চিম ছাগলনাইয়া (মাষ্টারপাড়া)

আজ আপনাদের সম্মুখে অত্যন্ত ভরাক্রান্ত হৃদয়ে হাজির হয়েছি এইজন্য যে, আমি এবং আমার পরিবার মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সমর্থক হওয়া সত্তে¡ও স্থানীয় জামায়াত নেতা ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজ ছাত্র শিবিরের সাবেক জি.এস ১৯৮৭-৮৯ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র শিবিরের সশস্ত্র কেডার নুর নবী চৌধুরী, পিতা- মৃত মফিজুর রহমান, সাং- পশ্চিম ছাগলনাইয়া আমাকে এবং আমার পরিবারকে সর্বনাশ করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে নানামুখি মিথ্যা মামলায় আমাদের নানামুখি হয়রানি করছে।

 

ধারাবাহিক ভাবে মিথ্যা মামলা এবং জাল দলিল সৃজন করে আমাদের মালিকীয় ও দখলীয় জমি ভোগ করার চেষ্টা লিপ্ত হয়ে ইতিমধ্যে ২০১৪সালে ফেনী বিজ্ঞ আদালতে ১৪৫ধারা দখলীয় মামলা করে যার পিটিশন নং- ৫৩৩/১৪ আদালত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মামলাটি খারিজ করে। এর এক বছর পর আবারও একই ভূমি দখল করার লক্ষে ফেনীর আদালতে ১৪৫ ধারা দখলস্বর্ত মামলা করে সেটি ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার আদালত খারিজ করে দেয়।

 

শালিসী বৈঠকে উপস্থিত লোকজন দলিলটি জাল বুঝতে পারায় আদালতের মাধ্যমে পিটিশন মামলায় ১৭/১৬ সঠিক দলিল যাচাই করতে গেলে আদালত ডিবি ফেনী তদন্ত প্রতিবেদনের উপর নির্ভর করে তাকে গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করেন এবং সে গ্রেফতার হয়। পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে আবারও ১৪৫ ধারা মামলা ২২০/২০১৭ এবং একটি দেওয়ানী মামলা নং- ৭৬/১৬ দায়ের করে। আদালত তদন্ত প্রতিবেদন এবং শুনানীর পর দুটি মামলায় খারিজ করে। উল্লেখ্য যে, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী বাদী হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতির পিতাকে নিয়ে নুর নবী চৌধুরী তার ফেইজবুক আইডিতে বিভিন্ন আপত্তিকর পোষ্ট শেয়ার করায় এবং আপলোড করার প্রতিবাদে মতিঝিল থানায় একটি জিডি করি (নং-১৩০৫) এবং সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করি (নং-৭৫৩)।

 

পরবর্তীতে সে এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে পারলে আমার বিরুদ্ধে ফেনীর আদালতে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করে এবং ঘটনার সময়ে উল্লেখ করে ১৩-০৯-২০১৯ সকাল ১০টা এবং হাসপাতাল থেকে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট নেয় ১৫-০৯-২০১৯ তারিখ। কিন্তু পি.বি.আই ফেনী তদন্তে নাম্বার ট্রেকিংয়ে বুঝা যায় সকাল ১০টা ৪১মিনিটে সে ফেনীতে অবস্থান করে এবং একই সময়ে আমি বাড়ীতে অবস্থান করি। যার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।

 

উক্ত মামলাটি বাদীপক্ষ নারাজী দেয়ার পর বিজ্ঞ আদালত ডিবি ফেনীকে তদন্তের দায়িত্বভার দেয়। পরবর্তীতে ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে আমি এবং আমার পরিবার বাদীর দায়ের করা মামলায় (সি.আর মামলা নং- ৬১/১৯) সম্পকৃতা নেই মর্মে ডিবি কর্তৃক আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে আবারও বাদী কর্তৃক আদালতে নারাজী প্রদান করা হলে আদালত সিআইডি ফেনীকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন।

 

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
উল্লেখিত জামায়াত নেতা নুর নবী আমি এবং আমার পরিবারকে হয়রানী করার উদ্দেশ্যে যতবারই মিথ্যা মামলা দায়ের করে প্রতিটি মামলায় সে পরাজিত হওয়ার পরও বার বার আমাদের কষ্ট দিতে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় জড়াচ্ছে। যেহেতু সে বার বার মামলায় পরাজিত হয়েও পুন পুন আদালতে নারাজী দিচ্ছে সেহেতু আমরা আশঙ্কা করছি যে, বিভিন্ন অসৎ উপায় অবলম্বন করে আমি ও আমার পরিবারকে দায়ি সাবস্ত করে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার পায়তারা করছে।

 

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
এমতাবস্থায় আপনাদের বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জামায়াত নেতার মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে মুক্ত হতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মাননীয় আইনমন্ত্রী, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি ও ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল এর সু-দৃষ্টি কামনা করছি।”

 

এ সময় ভূক্তভোগী জহিরুল ইসলাম জহির ও তার  পরিবার যাহাতে আর কোন হয়রানীর স্বীকার না হয় সেই জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও দেশের আইন শৃংখলা বাহিনীর নিকট আবেদন জানান এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর করার অপরাধে জামায়াত নেতা জাল নবীর চলমান আইনে শাস্তির দাবী জানান।