বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাজী আবদুল কাদের মজুমদার এবং তাঁর সন্তান সাবেক ছাত্রলীগনেতা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার (বাদল) এর বিরুদ্ধে কুচক্রি মহলের অশুভ ষড়যন্ত্র ও ঘৃণ্য অপতৎপরতার প্রতিবাদে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে মুক্তিযোদ্ধারা।

 

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধাসংসদ, ছাগলনাইয়া শাখার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যানারে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধা মনির আহমেদ মজুমদার, আবু আহমেদ মজুমদার, আবদুল হাই মজুমদারসহ অনেকে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাজী আবদুল কাদের মজুমদারকে জড়িয়ে গত ১৭ অক্টোবর ২০২২তারিখে দৈনিক আজকের সংবাদ পত্রিকায় “ ইসলামিক ফাউন্ডেশনে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরী পেয়েছে রাজাকার পুত্র!” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম- সাধারণসম্পাদক মুজিবুর রহমান মুজিব ও সাংগঠনিক সম্পাদক মুন্সি তাজুল ইসলাম মামুন।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যে তারা বলেন, প্রকাশিত সংবাদটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন মুজমদারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও মরহুম হাজী আবদুল কাদের মজুমদারের ২য় পুত্ৰ মোঃ নিজাম উদ্দিন মজুমদার সাংবাদিকদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন, গত ১৭ অক্টোবর ২০২২ তারিখে ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক আজকের সংবাদ’ এবং ১৮ অক্টোবর ২০২২ তারিখে ঢাকার দৈনিক গণতদন্ত’, পত্রিকাসহ কতিপয় পত্রিকায় আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাজী আবদুল কাদের মজুমদার এবং আমার ভাই মোহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার সম্পর্কে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকুরী পেয়েছেন রাজাকার পুত্র’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্য প্রণোদিত ।

 

এ ধরনের জঘন্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে আমার মরহুম বাবার আত্মার অবমাননা ও দেশের জন্য তাঁর আত্নত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করি। এতে আমার পরিবারের ভাবমর্যাদা চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিতর্কিত করার জঘন্য অপচেষ্টা করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। আমার ভাইয়ের পেশাগত জীবন বাধাগ্রস্ত করার জন্য এ হীন কাজটি করা হয়েছে।

 

আমি এ ধরনের অসত্য, মিথ্যা, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যে প্রচারিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একটি কুচক্রিমহল আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা ধ্বংস করতে ও আমাদের পরিবারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার নিমিত্তে এ ধরনের ঘৃণ্য অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে । এ বিষয়ে আমার বক্তব্য হচ্ছে, আমার পিতা মরহুম হাজী আবদুল কাদের মজুমদার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সেনানী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা । তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।

 

নিজের জীবনকে বাজি রেখে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন। যুদ্ধকালীন সময়ে আমাদের বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল। পুকুরের মাছ গুলোও পানি সেচে নিয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধকালীন সময়ে আমাদের পরিবার ভারতে আশ্রয় নিয়েছিল। যুদ্ধকালীন সাব সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন মাহফুজুর রহমান আমার পিতাকে সনদপত্র দিয়েছেন । মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ১৯৮৭ সালের ১৬ জানুয়ারী সরকার নিয়ন্ত্রিত জাতীয় দৈনিক” দৈনি বাংলা’য় “প্রকাশিত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা ও মুক্তিবার্তায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার পিতার নাম রয়েছে এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য আমার পিতাকে মুক্তিযোদ্ধার সনদপত্র প্রদান করেছেন।

 

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারী গেজেটে আমার পিতার নাম রয়েছে । ৭৫’ পরবর্তী দলের দুঃসময়ে আমার পিতা ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান এর শাসনামলে আওয়ামীলীগ করার অপরাধে রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দী করা হয়েছিল আমার পিতা হাজী আবদুল কাদের মজুমদারকে। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আপোষহীন, অকুতোভয় সৈনিক ছিলেন। ২০০০ সালের ২৬ জুলাই আমার পিতা মৃত্যুবরণ করেন।

 

জননেত্রী শেখ হাসিনা’র সরকারের প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) মুক্তিযোদ্ধাদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয়মর্যাদায় সমাহিত করার যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ফেনী জেলায় তিনিই প্রথম মুক্তিযোদ্ধা যাকে ২০০০ সালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয় ।আমার ছোট ভাই মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার (বাদল) ছোটবেলা থেকেই সৎ, সাহসী, মেধাবী ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত এবং জীবনের পরতে পরতে সততা, সত্যবাদিতা, সাহসিকতা ও মেধার স্বাক্ষর রেখে এসেছে। সে বাঁশপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণীতে ট্যালেন্টপুলে প্রাইমারী বৃত্তি লাভ করে। ১৯৮৫ সালে ছাগলনাইয়া সরকারী পাইলট হাই স্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে মানবিক শাখায় (কলা) তিন বিষয় লেটারসহ প্রথম বিভাগে (প্রাপ্ত নাম্বার ৬৮৩) এস.এস.সি পাশ করে।

 

এস.এস.সি-তে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য কুমিল্লা বোর্ড থেকে স্কলারশীপ লাভ করে। এস.এস.সি পাশ করার পর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজে একাদশ শ্রেণীতে মানবিক শাখায় ভর্তি হয়। ১৯৮৭ সালে ঐ কলেজ থেকে মানবিক শাখায় দুই বিষয় লেটারসহ কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে (প্রাপ্ত নাম্বার ৬৯৩) এইচ.এস.সি পাশ করে। এইচ.এস.সি-তেও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য সে ঢাকা বোর্ড থেকে স্কলারশীপ লাভ করে। পরবর্তীতে সে উচ্চ শিক্ষালাভের জন্য ভারতের আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।

 

ইতিমধ্যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগেও ভর্তির সুযোগ লাভ করে, পাশাপাশি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে উচ্চতর ডিগ্রী লাভের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ফুলব্রাইট স্কলারশীপ লাভ করে। কিন্তু অভিভাবকের পরামর্শে আমা