নিজস্ব প্রতিবেদক <>
দেশে সাম্প্রতিক ভাস্কর্য ভাংচুর, হরতাল, অগ্নিসন্ত্রাস ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে যে তান্ডব লিলা চালিয়েছিল হেফাজতে ইসলামসহ কয়েকটি ইসলামি দলের নেতাকর্মীরা। সেই তান্ডবের প্রতিবাদে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলার ৫নং মহামায়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ৫নং মহামায়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক গরীবশাহ হোসেন বাদশা চৌধুরী একটি স্ট্যাস্টার্স দেন। পাঠকদের জন্য উক্ত স্ট্যাস্টার্সটি হুবহু তুলে ধরা হলো।
ইসলাম ধর্মান্ধ পছন্দ করে না,কোরান হাদীসের অপব্যাখ্যা করলে কাল কেয়ামতের ময়দানে জিহবা কেটে দিবে।রাসুলে করিম(সা) বিভিন্ন যুদ্ধে কাফিরদের সাথে সন্ধি করেছিলেন।প্রসঙ্গত আমাদের প্রিয় নবীর কাছে যখন কাফের মুশরিকরা আসতেন,তাদেরকে আদর আপ্যায়ন করতেন,বন্ধুর আচরণ করতেন।
যে মুহুর্তে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিল তিল করে বাংলাদেশকে একটা সল্পোন্নত দেশে রুপান্তরিত করছেন ঠিক সে মুহুর্তে বড় বড় কিছু মাওলানা অন্যদের মাথা ভাঙিয়ে দেশ বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা গ্রহন করে আফগানিস্তান,পাকিস্তান বানানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন।আবার ঠিক এই মুহুর্তেই ধর্মের অপব্যাখ্যা করে দেশটাকে জঙ্গিবাদ,সন্ত্রাসবাদের মাধ্যমে অগ্নিসংযোগ করে আবার একটা যুদ্ধ হবে বলে স্লোগান দিচ্ছেন।সাধারণ ধর্মপ্রান মুসলমানদের কোমল অনুভূতিতে আঘাত করে,কোরান হাদীসের অপব্যাখ্যা করে আগুনের লেলিহান শেখায় পর্যভূষিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কিছুদিন পূর্বে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য নিয়ে ফতোয়া দিয়ে সাধারণ মুসলমানদের কোমল অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার চেষ্টা করেছেন।ভাস্কর্য,মুর্তি এককথা নয়।স্বাধীনতা যুদ্ধের পর র থেকে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ছিল,জিয়ার ভাস্কর্য ছিল,তখন কোথায় ছিল আপনাদের ফতোয়া।মূর্তি হচ্ছে ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম, যদি তাতে শিরক সংগঠিত হয়।বিএনপির শাসন আমলে বেগম জিয়ার ছবি তথা ভাস্কর্য ছিল প্রত্যেকটা অফিসে,আদালতে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তখন কোথায় ছিল আপনাদের ফতোয়া।
যতক্ষন পর্যন্ত ঐ আলেমদের মন গড়া বানানো বিদ্যাপিঠ থেকে শিক্ষা,দীক্ষা,বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যেমে প্রকৃত ইসলামিক বিদ্যাপিঠ তৈরি না হবে তবে ততক্ষন পর্যন্ত ধর্মান্ধতায় আকঁডে থাকবে।অনুমোদনবিহীন ব্যাঙের ছাতার মত আয় ব্যায়ের হিসাব বিহীন প্রতিষ্ঠান হতে থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত লাগাম ধরে টেনে আনা কঠিন ও দুঃসাধ্য।এক দেশে দুই আইন থাকতে পারে না।অনেক প্রতিষ্ঠান আছে সাধারণ মুসলমানেরা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির লোকেরা অনেক দান অনুদান করে থাকেন।
সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন মাদ্রাসাগুলা,মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের লোকেরা পৃষ্ঠপোষকতা করেন।দেশ বিদেশ থেকে অনেক অনুদান আসে,সরকারি ভাবে না আছে কোন অনুমোদন,না আছে আয় ব্যায়ের হিসাব নিকাশ।সকল আলেমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখেন এই সমস্ত ফতোয়াবাজরা গলা চিৎকার করে আরেকটা যুদ্ধ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।ইতিমধ্যে কত টাকার মালিক হয়েছেন।বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার জন্যে ঘোটাকয়েক আলেমদের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র।
একজন আলেম বলেছেন,শেখ হাসিনা আল্লা মানেন কিনা।আমি উনাকে অন্তরচক্ষু দিয়ে বলতে চাই,শেখ হাসিনা আল্লার একজন প্রিয় বান্দা,অলীও বটে।উনার অন্তরচক্ষু দিয়ে তাই ভালভাবে দেখার অনুরোধ করছি।অলী কাকে বলে।যে মানুষ যতবেশী দেশ,জাতী ও মানুষের জন্যে কাজ করবে তার আত্মা তত বেশী পবিত্র হবে।ধরে নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদী একজন বিধর্মী,সে আপনার শত্রু কিন্তু যখন সে আপনার বাড়িতে মেহমান হিসেবে আসবে সেক্ষেত্রে ইসলাম কি বলে।নরেন্দ মোদী বাংলাদেশে আসছে,সেটাকে ফতোয়া দিয়ে মানুষ হত্যা করলে,ঘর বাড়ি জ্বালিয়ে দিলে ইসলামের কি লাভ হবে।
https://www.facebook.com/garibshahossain