নিজস্ব প্রতিবেদক <>

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস আমরা মোটামুটি নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছিলাম। সবার মনে হচ্ছিল সবকিছু যেন ঠিক হয়ে গেছে। আমরা একেবারে কমিয়েও এনেছিলাম। সব কিছু নিয়ন্ত্রণেও এনেছিলাম। অর্থনৈতিক কাজগুলোও চলছিল।

কিন্তু আবার বিশ্বব্যাপী এই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এবারের করোনাভাইরাসটি হঠাৎ করে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশেও। আমাদের দেশে ২৯, ৩০ ও ৩১ মার্চ এত দ্রুত বেড়ে গেছে, যেটা চিন্তাও করা যায় না। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আনা শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করেছি বলে বোধ হয় মানুষের মাঝে একটি বিশ্বাস জেগে গেছে। এ জন্য সবাই ভাবছিল কিছু হয়তো হবে না। আমি বার বার বলেছিলাম ভ্যাকসিন নিলেও সাবধানে থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলতে হবে। এই স্বাস্থ্যবিধি মানাটা কিন্তু বন্ধ হয়েছে। আমরা হিসাব করে দেখেছি, যতগুলো বড় বড় বিয়ের অনুষ্ঠান।

যারা এই বিয়ে বাড়িতে গেছে, ফিরে এসে তাদের অনেকেই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করব, মাস্ক পরে থাকবেন। কারণ করোনাভাইরাস নাক থেকে গিয়ে সাইনাসে আক্রমণ করে। সেই ক্ষেত্রে সবাইকে মাস্ক পরে থাকতে হবে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে নাকে ভাপ নেওয়া। ভাপ নেওয়াটা খুবই কাজে লাগে।

যখনই কেউ একটু বেশি মানুষের সঙ্গে মিশবেন বা দোকানপাট-অফিসে যাবেন। ঘরে ফিরে একটু যদি গরম পানির ভাপ নেন, খুব ভালো হয়। এটা খুব কঠিন কাজ নয়। একটি কাপড় দিয়ে মাথাটা ঢেকে গরম পানির ভাপটা নিঃশ্বাসে নিলে পরে নাকের ভেতরে সাইনাস পর্যন্ত চলে যায়। তিনি বলেন, আমার মাস্ক আছে মাননীয় স্পিকার। বক্তৃতা দেওয়ার জন্য খুলে রেখেছি।

তা ছাড়া আমার আশপাশে এখন কেউ নেই। আমি এটা পরি। আবার কেউ যেন মনে না করেন আমি মাস্ক না পরেই (মাস্ক পরার কথা) বলছি। মাস্ক কিন্তু আমার সঙ্গেই আছে। পরেই বলি। মাস্ক পরে কথা বলতে গেলে কথাগুলো পরিষ্কার হয় না। প্রধানমন্ত্রী কাপড়ের মাস্ক পরা এবং তার যত্ন নেওয়ার কথা তুলে ধরে বলেন, কাপড়ের মাস্ক যেটা, তা সব থেকে ভালো হয়।

আর মাস্কটা একবার ব্যবহার করার পর সেটা দ্বিতীয়বার না পরে সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে শুকাতে দেবেন। আরেকটা পরবেন। আমরা সব সময় সেটাই করি। আমরা এ জন্য আলাদা বালতি রেখে দিয়েছি বলেও জানান তিনি।