কাজী মোস্তাফিজুর রহমান শাহিন নামে ছাত্রলীগের এক নেতা অতীতে শিবিরের নেতা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন একই উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সতীর্থরা। তাকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কারের দাবিও তুলেছে তারা।

 

ছাগলনাইয়া শুভপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৩ সালে শাহীন ছাত্র শিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে সে কৌশলে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে অনুপ্রবেশ করে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের পদ বাগিয়ে নেয়। বর্তমানে ওই কমিটি স্থগিত করা হলেও স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে দাপটে বেড়াচ্ছেন শাহীন। এ প্রসঙ্গে শাহীনের পূর্বের ঠিকানা উত্তর কুহুমা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মো. মুসা বলেন, শাহীন আগে কুহুমার বাসিন্দা থাকাকালীন ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকতে দেখেছি। কিন্তু এখন শুভপুর গিয়ে কিভাবে ছাত্রলীগের একটা গুরুত্বপূর্ন পদ পেয়েছে তা বুঝতে পারছি না।

 

ছাগলনাইয়া উপজেলা যুবলীগের সিনিয়র সভাপতি ও রাধানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাজী রাশেদুন্নবী রাশেদ বলেন, ৩০ বছরের অধিক রাজনীতিক সময় কালে কখনও শাহীন বা তার পরিবারের কাউকে আওয়ামী রাজনীতির সাথে দেখিনি। তারা আমার বাড়ির পাশে বসবাসের সময় সে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলো। শুভপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মোঃ আবদুল্লাহ সেলিম বলেন, শাহীন নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য ছাত্রলীগের ব্যবহার করেছে। তার শিবিরের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার বিষয়টি সত্য।

 

শুভপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মহসিন বলেন, কিছুদিন আগে শাহীন শিবিরের সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পারি। তার ২০১৩ সালে সে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেছিল। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা ছাত্রলীগকে এখনও জানাইনি। তবে দ্রæত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, শাহীনের পরিবারের কেউই আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলো না। সে অনুপ্রবেশ করে কৌশলে ছাত্রলীগের পদ নেয়। তবে এজন্য দলের জ্যৈষ্ঠ কোনো নেতার ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

ছাগলনাইয়া উপজেলা আওয়ামী সভাপতি নিজাম উদ্দিন মজুমদার বলেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংঘঠনে কোনো অনুপ্রবেশকারী বা স্বাধীনতা বিরোধীর স্থান নেই। তার যেকোনো সময় দলের ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। এ ধরণের কিছু কখনও কাম্য না। শাহীনের বিষয়টি নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রলীগকে ব্যবস্থা নিতে শীঘ্রই নির্দেশনা দেয়া হবে।

 

অভিযোগ প্রসঙ্গে শুভপুর ইউনিয়নের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন বলে, রাজনীতিতে ার জনপ্রিয়তা জনপ্রিয়তা বেশি তারই সমালোচনা হয়। এ ধরণের অভিযোগ থাকলে আমি গত দেড় বছর ছাত্রলীগের পদে দায়িত্ব পালন করতাম না। ষড়যন্ত্রকারীরা পারলে প্রমাণ করুক। উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মুন্সী মোরশেদ আলম বলেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন ইউনিয়ন পর্যায়ে পূণাঙ্গ কমিটির জন্য তথ্য সংগ্রহ চলছে।

 

শাহীনের বিষয়টি অবগত হয়েছি। আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে কোন অনুপ্রবেশকারীর স্থান নেই। নতুন কমিটি দেয়ার সময় এটি মাথা রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।