ছাগলনাইয়া উপজেলার ১০নং ঘোপাল ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামে গড়ে উঠা পোলট্রি খামারের মুরগির বিষ্ঠা ও বর্জ্যে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে মারাত্মকভাবে।

 

পোলট্রি বর্জ্যরে তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ওই গ্রামের বাসিন্দারা। ভোগান্তিতে আছে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও। প্রতিবছর নষ্ট হচ্ছে শত একর জমির ধানসহ নানা ফসল।

 

জানা যায়, ১৯৯৫ সালে এই গ্রামের মাসুদ নামের এক ব্যবসায়ী প্রথম পোলট্রি হ্যাচারির খামার স্থাপন করে। তার পর থেকে প্রতিবছরই এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে মাসুদ ৬টি, নিজামের ২টিসহ এলাকায় প্রায় ২৫টি পোল্টি খামার রয়েছে। এসব পোলট্রি খামারে প্রায় পঁঞ্চাশ থেকে আশি  হাজার মুরগি রয়েছে।

 

এলাকাবাসী জানায়, পোল্টি বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সব খামারের মুরগির বিষ্ঠা মাছের খাদ্য হিসাবে বিক্রি করে খামারের মালিকরা। সময়মতো বিক্রি না হলে খামারেই থেকে যায় এসব বিষ্ঠা। না হয় খামারের পাশেই উন্মুক্ত স্থানে অথবা খালে বস্তায় ভরে লোকালয়ে ফেলে রাখা হয়। ফলে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায় আশপাশের এলাকায়।

 

তাছাড়া মাছের খামারিরা মুরগির বিষ্ঠা ট্রাকে করে নেয়ার সময় রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে। এর ফলে ছিটিয়ে পড়া বিষ্ঠার দুর্গন্ধে পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এলাকার পথঘাট। দুর্গন্ধের কারণে স্কুল চলাকালীন সময়ে স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের রুমাল বা বই দিয়ে নাক চেপে ধরে স্কুল-কলেজে যাওয়া আসা করতে হয়।

 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দৌলতপুর গ্রামে বিভিন্ন নামে বেনামের খামারের পাশে বিষ্ঠার ভাগার থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ট জনবসতিপূর্ণ এলাকাবাসী।  গ্রামের মানুষ পোলট্রি বর্জ্যরে তীব্র দুর্গন্ধে চরম ভোগান্তিতে আছে। খামারিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার।

 

দৌলতপুর গ্রামের আবুদর রহিম জানান, রোদ তীব্র হওয়ার সাথে সাথে খামারের দুর্গন্ধ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে, খামারের দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা যায় না। বিষ্ঠার দুর্গন্ধে ভালোভাবে খাওয়া দাওয়া করা যায় না। দুর্গন্ধে বমি এসে যায় এবং ছোট বাচ্চারা অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে। বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠা খামারগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কোনো ব্যবস্থা নেই।

 

ড্রেন ও পাইপ দিয়ে বর্জ্য ফেলা হয় ফসলি জমিতে। এতে প্রতি বছরই মুরগির খামারের বিষ্ঠা ও বর্জ্যে ধানসহ বিভিন্ন ফসল পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাদের দাবি, গত ৫ বছর যাবৎ এ ঘটনা ঘটছে। এ বছরও তাদের অনেক একর জমির আমন ধান পচে নষ্ট হয়ে গেছে।

 

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের মতে, পোলট্রির বিষ্ঠার দুর্গন্ধ স্বাস্থের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, বিশেষ করে ছোট বাচ্চাদের জন্য বেশি ক্ষতিকর। তাছাড়া শ্বাসকষ্টের মতো বড় ধরনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই খামার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দরা সব সময় স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।

 

ঘোপাল ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক বলেন, এলাকাবাসী দুর্গন্ধের দুর্ভোগ পোহালেও লাভবান হন খামারীরা। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যথায় অত্র এলাকাজুড়ে যে কোন সময়ে বড় ধরনের দূঘর্টনা ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

এ বিষয়ে কথা বলতে বিভিন্ন পোলট্রি মালিকদের কল দিলেও তারা কেউই ফোন রিসিভ করেননি।

ছাগলনাইয়ায় ১টি গ্রামে প্রায় ২৫টি পোলট্রি খামার, বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী

ছাগলনাইয়ায় ১টি গ্রামে প্রায় ২৫টি পোলট্রি খামার, বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ট এলাকাবাসী

 

ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া  তাহের জানান, জনবসতি এলাকায় পোলট্রি খামার করার কোন নিয়ম নেই, কোথায় কোথায় এমন পোলট্রি খামার আছে, আমাকে তথ্য দিন অথবা এলাকাবাসীকে বলেন, আমার বরাবরে দরখাস্ত দিতে, আমি সাথে সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

 

ছাগলনাইয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল বলেন, জনবসতি এলাকায় ও সরকারের খাস জায়গাতে এমন পোলট্রি খামার কোনভাবে মেনে নেওয়া হবে না। ইতিমধ্যে যারা এমন কাজটি করেছেন, আপনারা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পোলট্রি খামার গুলো স্থানান্তর করে নিন, অন্যথায় আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে আপনাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।